সাম্প্রতিক

প্রধানমন্ত্রীর উপহারে দুর্গোৎসবে মেতেছেন হিন্দু রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস ঘটনায় গত বছর না পারলেও এ বছর কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে আশ্রয় নেয়া হিন্দু রোহিঙ্গাদের দুর্গাপূজা পালনের সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তাই শারদীয় দুর্গোৎসবে মেতেছেন ।

এই দুর্গোৎসবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রাণের পাশাপাশি শুভেচ্ছা উপহার হিসাবে নতুন কাপড়সহ নানা সামগ্রী পাঠিয়েছেন হিন্দু রোহিঙ্গাদের জন্য। পূজার যাবতীয় আয়োজন ও শুভেচ্ছা উপহার পেয়ে আনন্দিত তারা। একই সাথে নির্ভয়ে পূজা উদযাপনে কক্সবাজার জেলা পুলিশ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করায় স্বাচ্ছন্দ্যে উৎসবে মেতেছেন।

এতদিন রাখাইনে ছোট পরিসরে দুর্গাপূজা উদযাপন করে এলেও এবার বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে সুযোগ পাওয়ায় খুশিতে আত্মহারা এসব হিন্দু রোহিঙ্গা।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস ঘটনার পর মুসলিম রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি রাখাইনের চিকনছড়ি গ্রাম থেকে উখিয়ার কুতুপালং গ্রামে পালিয়ে আসেন ১৬৫ পরিবারের ৫২৩ জন হিন্দু রোহিঙ্গা। এর মধ্যে ৬ পরিবারের ২৭ জন গত বছরই দুর্গাপূজার কথা বলে মিয়ানমারে ফিরে গেলেও বাকি ৪৯৬ জনকে বিশেষ নিরাপত্তায় রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিন্দু রোহিঙ্গাদের খাদ্য, বাসস্থান, নগদ টাকা, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এবারের দুর্গোৎসবেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিমা বিসর্জনের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধাসহ তিনি ত্রাণের পাশাপাশি পাঠিয়েছেন শুভেচ্ছা উপহারও।

উখিয়ার কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় আমরা ক্যাম্পে আছি। এই পর্যন্ত আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি। প্রাণভয়ে পালিয়ে এদেশে আসার পর থেকে চাল, ডাল, তেল ও নানা ত্রাণসামগ্রী পেয়ে আসছি। সর্বশেষ পেলাম বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার। এতে আমরা খুবই আনন্দিত।’

‘প্রতি বছর মিয়ানমারের ছোট পরিসরে আমরা দুর্গাপূজা করে আসছিলাম। আজ নিজেদের জন্মভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আরও বৃহৎ আকারে দুর্গোৎসবে সামিল হতে পেরেছি। এজন্য বাংলাদেশে সরকারকে হাজার হাজার আশীর্বাদ জানাচ্ছি।’

তারা বলেন, ‘এই পূজায়  আমাদের প্রার্থনা থাকবে, আমরা যেন নিরাপদে আমাদের দেশ মিয়ানমারে ফেরত যেতে পারি। এজন্য বাংলাদেশ সরকারের আরও সহযোগিতা চাই।’

পূজামণ্ডপে দায়িত্বরত নিরঞ্জন রুদ্র (৪৫) বলেন, ‘গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হামলার পর আমরা প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসি। সেই বছর কোনো ধরনের পূজা করতে পারিনি। এ বছর বাংলাদেশ সরকার আমাদের দুর্গোৎসব পালনের সুযোগ দেয়ায় খুব আনন্দ লাগছে। আমরা ক্যাম্পের ভেতরে থাকলেও যেন নিজ দেশে বসবাস করছি। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনে রাখার মতো। আমাদের কোনো ধরনের সমস্যা নেই।’

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে মুসলিমদের পাশাপাশি বেশকিছু হিন্দু রোহিঙ্গাও বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। আমরা তাদের কুতুপালং এলাকায় ক্যাম্প করে সার্বিক নিরাপত্তাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবাইকে আশ্রয় দিয়েছেন। তাদের সর্ববৃহৎ উৎসবে যেন হিন্দু রোহিঙ্গারা আনন্দের সাথে দুর্গাপূজা করতে পারেন, সেজন্য ক্যাম্পের অভ্যন্তরে পূজামণ্ডপ থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘দুর্গোৎসবে হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। অন্যগুলোর তুলনায় হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কয়েকগুণ বেশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থায়ীভাবে পুলিশ মোতায়েন ছাড়াও মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং টিম রয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা সবই দিয়ে আসছি। পূজা উপলক্ষে এসব হিন্দু রোহিঙ্গার জন্য শুভেচ্ছা উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে নতুন শাড়ি, লুঙ্গি ও বাড়তি খাবারসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ  শুরু করেছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না