সাম্প্রতিক

না.ঞ্জে জেএমবির নারীসহ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির এক নারীসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১১)। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

সোমবার বিকালে র‌্যাব-১১ এর এএসপি নাজমুল হাসান এ তথ্য জানান। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মাদানীনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেএমবির সক্রিয় সদস্য বরিশাল জেলার কাউনিয়া এলাকার মো. রেজাউল করিম ও বরিশাল বাকেরগঞ্জের মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় রেজাউলের কাছ থেকে ২টি গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী লিফলেট উদ্ধার করা হয় এবং পলাশের কাছ থেকে একটি চাকু, উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব আরো জানায়, পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্যমতে ঐদিন রাত সোয়া ১১টায় ঢাকা ডেমরার পশ্চিম হাজীনগর এলাকায় আরো একটি অভিযান পরিচালনা করে জেএমবির নারী শাখার ঢাকা দক্ষিণের সমম্বয়কারী শাহনাজ আক্তার ওরফে সাদিকা ওরফে শাহানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী বই ও লিফলেট। গ্রেপ্তারকৃত শাহানার বাড়ি চাঁদুপুর জেলার ফরিদগঞ্জে।

র‌্যাব-আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহনাজ আক্তার ওরফে সাদিকা ওরফে শাহানা জানিয়েছে ২০০৯ সালে ঢাকার দক্ষিণখান একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও ২০১০ সালে গাজীপুর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসা হতে আলিম পাশ করেন। পরে ২০১৩ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি বিভাগে ২য় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশুনা করেন।

এরপর ২০১৫ সালে আননিসা কালেকশন নামক অনলাইন ভিত্তিক একটি বোরকার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হন। উক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন ২০১৬ সালে র‌্যাব-৪ কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত জেএমবির সদস্য আকলিমা আক্তারের মাধ্যমে সে জেএমবির নারী শাখায় যোগদান করে।

পরবর্তীতে আকলিমাসহ তার আরো ৩ সহপাঠী ইসতিশনা আক্তার ঐশী, ইশরাত জাহান মৌ ও খাদিজা আক্তার মেঘনা গ্রেপ্তার হলে তিনি কৌশলে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকেন। এরপর সাদিকা তার অনলাইন ব্যবসার আড়ালে জেএমবির নারী শাখাকে সংগঠিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। তিনি নারীদেরকে কৌশলে সংগঠনে যোগদানের জন্য দাওয়াতি কাজ করতেন ।

এছাড়াও সাদিকা বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে জেএমবির জন্য অর্থ সংগ্রহ করে সাংগঠনিক কাজে ব্যবহার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।

সাদিকা জেএমবির নারী শাখার ঢাকা দক্ষিণের সমম্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন।

র‌্যাব আরো জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর  র‌্যাব-১১ কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত জেএমবির সদস্য বুলবুল হাসান মাহমুদ ও তার স্ত্রীর সাদিকার বান্ধবীর মাধ্যমে সাদিকা মো. রেজাউল করিম ও মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে পলাশের সাথে জেএমবির সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রাখতো।

 

অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত মো. ২০১৪ সালে ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে বিভিন্ন উগ্রবাদী বয়ানের মাধ্যমে উগ্রবাদীতায় আকৃষ্ট হন। ২০১৫ সালে অটোরিকশা চালানোর সুবাদে গ্রেপ্তারকৃত জেএমবির সদস্য বুলবুল হাসানের সাথে তার পরিচয় হয়। বুলবুল তাকে বিভিন্ন জিহাদ সম্বলিত লিফলেট ও বই প্রদান করে জেএমবিতে যোগদান করতে বললে তিনি সম্মত হন।

এরপর ক্রমান্বয়ে তিনি জেএমবির দাওয়াতি শাখা থেকে সামরিক শাখায় অন্তর্ভুক্ত হন। পরে বুলবুলের আহবানে রেজাউল ঢাকায় এসে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ি চালানোর চাকরি নেন। এর পাশাপাশি জেএমবির সাংগঠনিক কর্মকা- অব্যাহত রাখেন।

অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে পলাশ ২০১০ সালে এএসসি ও এইচএসসি পাশ করে ঢাকার একটি স্বনামধন্য কলেজ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেন। ২০১৬ সালে বরিশালের একটি সালাফি মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে বুলবুল হাসান ও রেজাউল করিমের সাথে জহিরুল ইসলাম ওরফে পলাশের পরিচয় হয়।

ধীরে ধীরে পলাশ হানাফি মাজাহাব থেকে সালাফিতে দীক্ষিত হন এবং এক পর্যায়ে পলাশ জেএমবিতে যোগদান করে। জেএমবিতে যোগদানের পর থেকে পলাশ জেএমবির দাওয়াতি কাজ করে আসছে। তারা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়ে জেএমবির সাংঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না