সাম্প্রতিক

নবাবি আতরের কিস্যা

আতর হলো ভেষজ জাত সুগন্ধি।এটি ফারশি শব্দ।প্রাচীনকাল থেকে ধর্মীয় কাজে মুসলমানরা ব্যবহার করে আসছেন আতর।বিশেষত নামাজ পরার সময় এই আতর ব্যবহার করে থাকেন ।এছাড়া  উৎসবে আনন্দে আতর ব্যবহৃত হয়।প্রাচীনকাল  থেকে মিশরীয়রা এই আতর তৈরি করে আসছেন বিভিন্ন গাছ-গাছালি  ফুলের নির্যাস তেল ব্যবহার করে।এমনকি মৃতদেহ মমি করার সময় এই আতর ব্যবহার করাহতো।গবেষকদের মতে বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসক আল শেখ আল-রইস নানরকম সুগন্ধী  বা আতর তৈরীর প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেন।আতরের ইতিহাস  তাই অনেক পুরানো।বাংলার নবাব থেকে সাধারণ মানুষ ছিলেন আতর  প্রিয়।মুর্শিদাবাদে আতর তৈরী করে আসছেন নবাবি আমল থেকে এক বিশেষ পরিবার।সেই নবাবি আতর   আজও পাবেন মুর্শিদাবাদের  লালবাগের ইচ্ছাগন্জে। প্রায় ২০০বছর ধরে এখানে আতরের  ব্যবসা করে আসছেন এই বিশেষ পরিবার।তবে তাদের পুর্বপুরুষদের কোন স্মৃতি নেই। কবে তারা  এখানে এসেছিল এখনে তারও কোন সঠিক দলিল নেই।তবে এখনও তারা নানান আতর, গোলাপ জল ও কেউড়া জল বিক্রি করেন। এমন এক আতর ব্যবসায়ী হলেন ইচ্ছাগঞ্জের আসিফ তানভির।আতর ব্যাবসায়ী আসিফ তানভির বলেন তাদের আতরের কারখানা উত্তর প্রদেশে। কারন এখনে যেসব ফুল হয় তাতে সুগন্ধ নেই কিন্তু উত্তর প্রদেশে যে ফুলের চাষ হয় তার সুগন্ধ রয়েছে ।তাই তাদের আতর কারখানাও সেখানেই করা হয়েছে।কিন্ত বিক্রয়কেন্দ্র প্রথম থেকেই ছিল মুর্শিদাবাদে।এখানে নানান ফুলের যেমন গোলাপ,জুঁই বেলি হাসনুহানা প্রভৃতি ফুলের আতর তৈরি করা হয়।আতরের সঙ্গে আতরের বোতলগুলিও দেখতে অপরূপ সুন্দর!আতরের নানা নামও আছে, যেমন চমনবাহার রাতকি রানি শামিমে ওয়াসফি গুল বাহার।শামিমে ওয়াসফি আতর ছিল নবাব ওয়াসিফ আলির প্রিয় অতর।তবে সেই আতর এখন আর পাওয়া যায় না চাহিদার অভাবে। বর্তমানে কোন আতরেরই তেমন কোন চহিদা নেই কারন এর তীব্র গন্ধের জন্য অনেকেই আতর মাখা থেকে দূরে থাকেন।পুরানো দিনের কিছু সৌখিন মানুষরাই এসব এখনও ব্যাবহার করেন।তবে তাদের সংখ্যাও খুবই কম।তবে এখন আতরের চাহিদা কম হলেও গোলাপ জল এবং কেউড়া জলের এখনো বিপুল চাহিদা আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

error: Content is protected !!