সাম্প্রতিক

ধারাবাহিক কর্মসূচি আসছে বিএনপির

একাদশ নির্বাচনে ভরাডুবির পর কিছুদিন সাদামাটা রাজনীতির মধ্যে সময় অতিক্রম করবে বিএনপি। তারপর ধারাবাহিক কর্মসূচি হাতে নেবেন দলটির নেতারা। এর মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিতে কি কি থাকতে পারে এনিয়ে চলছে বিএনপির শীর্ষ নেতা, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা। ফেব্রুয়ারি বা মার্চের আগে কয়েকটি মহাসমাবেশ, তারপর এপ্রিলে লংমার্চ, রোডমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

এমনটি জানিয়েছেন বিএনপির বেশ কয়েক নেতা। একই সঙ্গে সরকারকে স্বীকৃতি না দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী দেশগুলোকে চিঠি দেবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপি নেতারা। আর জাতীয় ঐক্যেফ্রন্টের বাইরেও পৃথক পৃথকভাবে বিভিন্ন দেশের মিশনে চিঠি দেবে জামায়াত, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্য জোটের একাংশ, বিকল্পধারার একাংশ, গণফোরাম, মুসলিম লীগ, আওয়ামী ন্যাপের একাংশ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ জোটের অধীনে রাজনীতিক দলগুলো।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানালেও খুব শিগগিরই আন্দোলনে নামছে না বিএনপি। দলটির সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগে কর্মসূচি দিলেও সক্রিয়ভাবে রাজপথে নামা সঠিক হবে না। এক্ষেত্রে তারা মনে করছেন, আগামী অন্তত তিন থেকে চার মাস নেতাকর্মীদের বিশ্রাম দেয়া উচিত এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আচরণ ও কৌশল পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এরপরই নতুন নির্বাচনের দাবি নিয়ে সামনে আসতে চাইছেন বিএনপি নেতারা। ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এসব বিষয়ে একমত হন। একইসঙ্গে নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আবারো আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকে বলেন, আমি তো মনে করি নেতৃত্বের পুনর্গঠন হওয়া দরকার। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এখন কাজ হবে দেশে যারা কাজ করছেন তাদের ওপর বিশ্বাস রাখা এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে স্থায়ী কমিটির বর্তমান সদস্যদের ওপর ভরসা করা।

অপরদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে প্রার্থীদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া প্রত্যেক প্রার্থীকে ৮টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচনের তথ্য দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে দুটি চিঠি দেয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট-৩ আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শফি আহমদ চৌধুরী বলেন, আমরা দুটি চিঠি পেয়েছি। দলের নির্দেশমতো আমরা কাজ করব।

অপর চিঠিতে একাদশ নির্বাচনে প্রতিটি সংসদীয় এলাকার প্রার্থীদের প্রতি ৮টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। চিঠিতে সব প্রার্থীদের নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় সংঘটিত অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি, সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের তাণ্ডব এবং সন্ত্রাসের একটি সচিত্র প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বরাবর জমা দিতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রার্থীর নিজের এবং পরিবারের অবরুদ্ধতা কিংবা হামলায় আহত ও সহায় সম্পদের ক্ষতিগ্রস্ততার তথ্য ও ছবি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক প্রার্থীকে নির্বাচনের দিন ধানের শীষের দায়িত্বপ্রাপ্ত পোলিং এজেন্ট, প্রার্থীর সমন্বয়কারী, নেতাকর্মীদের মারধর ও কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়া এবং গ্রেফতারের তালিকা দিতেও বলা হয়েছে।

ভোটের পূর্ব রাতে ও ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত ভোট জালিয়াতির প্রমাণ এবং ভোটকেন্দ্রসমূহের প্রকৃত ভোট সংখ্যার চেয়ে প্রদর্শিত ভোট সংখ্যা অধিক বা প্রায় সমসংখ্যক হয়ে থাকলে নামসহ প্রকৃত হিসাব দিতেও বলা হয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতায় আহত-নিহত দলীয় নেতাকর্মীদের নাম, পরিচয়, ঠিকানা এবং আক্রান্তের ছবিসহ ঘটনার বিবরণ দিতেও বলা হয়েছে প্রার্থীদের। এ ছাড়া যে কোনো প্রকার অপরাধের আইনানুগ প্রতিকার লাভের জন্য থানা বা আদালতে জিডি, মামলা করা হয়ে থাকলে অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জিডি বা মামলা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকলে তার কপিও দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রার্থীদের। নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন বা অন্য যে কোনো প্রকার অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে থাকলে তার ফটোকপিও দিতে ধানের শীষের প্রার্থীদের নির্দেশ দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২২টি আসনে অংশ নিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরবর্তী জরুরি বৈঠকে জামায়াতের মনোনীত কোনো প্রার্থীই অংশ নেননি। এদিন সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে প্রার্থীদের সঙ্গে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ বৈঠকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়া গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, নাগরিক ঐক্য, জেএসডির প্রার্থীরা অংশ নিলেও জামায়াতের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি। এ বিষয়ে দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকে ফোন করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। মানবকণ্ঠ

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না