সাম্প্রতিক

দুর্যোগ ছাড়াই ২০০০ কোটি টাকা খরচ

বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলেও সরকারি তহবিল থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে খরচ হয়েছে ২০০০ কোটি টাকা। অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা (আনএক্সপেক্টেড ইভেন্টস) বা দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য যে জরুরি তকবিল রাখা হয়েছে সেখান থেকে এই অর্থ খরচ হয়েছে। নির্বাচনী বছরে এসে বর্তমান বাজেট অর্থবছরে এই খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নিউএইজ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ১৫ই নভেম্বর অর্থবিভাগের একটি আপডেট অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ থেকে ১৪৬৪ কোটি টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে। অনাকাঙ্খিত ইভেন্ট যেমন বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের সংজ্ঞার সঙ্গে বেশির ভাগ খরচ খাপ খায় না। বর্তমান অর্থবছরের প্রথম এক চতুর্থাংশে শতকরা মাত্র ৫ ভাগ রাজস্ব অর্জিত হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধীরগতির হলেও অতিরিক্ত অর্থের জন্য চাপ আসছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ থেকে।

আগের অর্থবছরে একই সময়ে এই রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল শতকরা ২৪ ভাগ।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় এমন কি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য অসঙ্গতি সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলাকালে তা মোকাবিলার জন্য জরুরি প্রয়োজন মেটাতে বাজেটে একটি তহবিল রাখা হয়। তবে অর্থ বছরের ৫ মাসের মধ্যে সেই তহবিল ফুরিয়ে যাওয়া কোন শুভ লক্ষণ নয়।
প্রায় তিন ডজনের মতো খাতে অনাকাঙ্খিত ঘটনা মোকাবিলার অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন খাতে ছাড় দেয়া হয়েছে ৩৩১.৭০ কোটি টাকা। এই ভবনটিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৯ সালে। তখন তার নাম ছিল ইস্ট পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। তা থেকে ১৯৫৫ সালে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয়।
৩১ শে আগস্ট অর্থবিভাগ ছাড় দেয় ৫০০ কোটি টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের চাকরিজীবন পরবর্তী সেবা ও কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা মেটাতে এই টাকা ছাড় দেয়া হয়।
দুই দফায় ১১০ কোটি টাকা দেয়া হয় বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনকে। প্রথম দফায় আগস্টে দেয়া হয় ১০০ কোটি টাকা। অক্টোবরে দেয়া হয় ১০ কোটি টাকা। গত অর্থ বছরে ৪৮৯.৩১ কোটি টাকা ও ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৪৮১.৯০ কোটি টাকা লোকসান দেয়া সত্ত্বেও যশোর ও খুলনায় পাট ও বস্ত্রখাতের মিলগুলোর শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের জন্য এই অর্থ দেয়া হয়।
মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে বিরোধ মিটাতে মন্ত্রণালয়ের একটি সিদ্ধান্তের পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে দেয়া হয় ৯৯.২২ কোটি টাকা। ১৯৭৫-৭৯ সালে সামরিক শাসন থাকা অবস্থায় ওই সিনেমা হলটির দখল নেয়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট।
এ ছাড়াও অনাকাঙ্খিত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাখা বরাদ্দ থেকে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচি যাতে মসৃণভাবে চলতে পারে তা নিশ্চিত করতে অর্থবিভাগ ছাড় দেয় ৭৯ কোটি টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং ট্রাক খাতে দেয়া হয় ৩১.৮৫ কোটি টাকা। ২৫.০৭ কোটি টাকা দেয়া হয় ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সকে। বর্তমান সরকারের সফলতা প্রদর্শনের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০টি জেলায় সাংস্কৃতিক কর্মসূচি হাতে নেয়। এ জন্য তাদেরকে বরাদ্দ করা হয় ১৫ কোটি টাকা।
বাজেট ডকুমেন্ট অনুযায়ী, বর্তমান অর্থবছরে এই অর্থ ছাড় আগের বছরের অর্থছাড়ের সঙ্গে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০০০ কোটি টাকা। সে তুলনায় আগের বছরে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল মাত্র ৩০০ কোটি টাকা। ওই বছরের বেশির ভাগ অর্থ খরচ হয়েছিল রাখাইন থেকে বাস্তচ্যুত হয়ে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন খাতে।
২০১৫-১৬ অর্থ বছরে এ তহবিল থেকে ছাড় দেয়া হয়েছিল ৬০ কোটি টাকা। ২০১৪-২০১৫ সালে ছাড় দেয়া হয়েছিল মাত্র ২ কোটি টাকা।
বাজেট ডকুমেন্ট অনুযায়ী, অপ্রত্যাশিত দুর্যোগ মোকাবিলার তহবিল থেকে বরাদ্দ গত ৫ বছরের বরাদ্দের দ্বিগুন। সরকার ২০১২-১৩ সালে এখান থেকে ১২০০ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছিল। এই খাতের অর্থ পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই খরচ করা যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

error: Content is protected !!