সাম্প্রতিক

তারেক রহমানের পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না: ফখরুল

একুশে আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দল থেকে পদত্যাগের করা প্রশ্নই আগে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, মিডিয়ার একাংশ এ রায়ের পর্যবেক্ষণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে মনগড়া তথ্য প্রকাশ করে জনমনে বিরুপ ধারণা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দলীয় তদন্তকারীর চক্রান্তে সাজানো মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাই তার পদত্যাগ করার প্রশ্নই আসে না।

২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত বুধবার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। এতে ১৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রায়ে তারেক রহমানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সাজা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ফখরুল। বলেন, দলীয় তদন্তকারীর চক্রান্তে সাজানো মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

‘এটা জানার পরেও কেউ কেউ দল থেকে তার পদত্যাগের যে পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের কাছে জনগণের প্রশ্ন, এতো-শত গুম, খুন করার জন্য দায়ী সরকারের পদত্যাগ কি তারা দাবি করেছেন? নিম্ন আদালতের দেয়া রায়কে যখন আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন ও বিএনপিকে দুর্বল করার অসৎ উদ্দেশ্য বলছি, তখন সেই রায়ের ভিত্তিতে আমাদের নেতা তারেক রহমানের পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না’।

মিডিয়াকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘সবাই জানেন যে, ২১ আগস্টের নৃশংস ঘটনার সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য তৎকালীন সরকারই মামলা দায়ের করেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য এফবিআই এবং ইন্টারপোলকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে; বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করেছে এবং সর্বোপরি এই মামলার মূল আসামি মুফতি হান্নানকে গ্রেপ্তার করেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে, তৎকালীন সরকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। কাজেই রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা হয়েছে বলে আদালতের যে পর্যবেক্ষণ-তা’ যুক্তিগ্রাহ্য কিংবা গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মুফতি হান্নানের বেআইনি দ্বিতীয় জবানবন্দী বাদ দিলে তারেক রহমান এবং অন্য অনেক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিকেই এই মামলায় অভিযুক্ত করা যেতো না। যৌক্তিক কারণেই একথা বলা যায় যে, প্রকাশ্য আদালতে মুফতি হান্নান যাতে তাকে দিয়ে জোর করে জবানবন্দীতে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে-এটা বলতে না পারেন সে জন্যই অন্য একটি মামলায় দ্রুততার সঙ্গে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির কোনো উল্লেখ না থাকাও বিস্ময়কর এবং সন্দেহমূলক।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না

error: Content is protected !!