সাম্প্রতিক

ডলার বিক্রিতে কারসাজি: শাস্তির মুখে ১৯ ব্যাংক

১৯টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে কারসাজি করে বেশি দামে ডলার বিক্রি করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমদানি পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বেশি দামে ডলার বিক্রি করে তথ্য গোপন করেছে ব্যাংকগুলো।

এজন্য ব্যাংকগুলোকে শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক দুটি অনুসন্ধানে এ কারসাজির তথ্য উঠে এসেছে। গত মাসের শেষে এবং চলতি মাসের শুরুতে এসব ব্যাংককে শোকজও করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১০টি ব্যাংক শোকজের জবাব দিয়েছে। সব ব্যাংকের জবাব পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ডলারের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জানা গেছে, এর আগেও ডলারের দামে কারসাজি প্রমাণিত হওয়ায় কয়েকটি ব্যাংককে জরিমানা করা হয়েছিল।

আমদানি পর্যায়ে ডলারের দামে কারসাজি এবং খুচরা পর্যায়ে ডলারের উচ্চমূল্য- এ দুই মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠেছে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমদানিকারক ও ভোক্তারা। ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডলারের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাফেদা। বিষয়টি নিয়ে গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়ে সংগঠনটি চিঠি দেবে।

জানতে চাইলে বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ যুগান্তরকে বলেন, বেসরকারি ১৯টি ব্যাংক ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডলার বিক্রি করেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে একধরনের অস্থিরতা চলছে।

অভিযুক্ত ব্যাংকগুলো হল- সিটি ব্যাংক এনএ, ব্যাংক আল ফালাহ, ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। গত বছরের নভেম্বরে একই অভিযোগে ২০টি ব্যাংককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সুস্পষ্ট জবাব না দেয়ায় কয়েকটি ব্যাংককে জরিমানাও করা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আন্তঃব্যাংক দরের চেয়ে এক টাকারও বেশি দরে ডলার বিক্রি করেছে ব্যাংকগুলো।

বাজারে ডলারের বাড়তি চাহিদা থাকায় কাজটি করেছে ১৯টি ব্যাংক। ব্যাংকগুলো আমদানিকারকদের কাছে যে দামে ডলার বিক্রি করেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে দেখিয়েছে তার চেয়ে কম।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে ৮৩ টাকা ৮৫ পয়সায় ডলার বিক্রি করার নির্দেশনা দেয়া আছে। কিন্তু ১৯টি ব্যাংক সে নির্দেশনা না মেনে আমদানি পর্যায়ে ৮৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৮৪ টাকা ৮৫ পয়সা পর্যন্ত দরে ডলার বিক্রি করেছে। প্রথম দফার শোকজের জবাব এসেছে। দ্বিতীয় দফায় শোকজের জবাব দেয়ার সময় ছিল ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত। চলতি সপ্তাহে শাস্তির বিষয়টি জানা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এভাবে প্রকৃত দর গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেয়ায় কেন ব্যাংকগুলোকে জরিমানা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। উপযুক্ত জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হবে।

প্রতিটি ব্যাংককে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করার সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, রফতানি ও রেমিটেন্সের চেয়ে আমদানি বাড়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। বাড়তি এ চাহিদাকে কেন্দ্র করে এসব ব্যাংক অতি মুনাফার লোভে তা করেছে।

অনেক ব্যাংক নিজের সক্ষমতার বাইরে গিয়ে এলসি খুলেছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে বেশকিছু ব্যাংক প্রতি ডলার বিক্রি করছে ৮৬ টাকা দরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার খুচরা পর্যায়ে ২৪টি ব্যাংক নগদ ডলারের সর্বোচ্চ দাম রেখেছে ৮৬ টাকা থেকে ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

error: Content is protected !!