সাম্প্রতিক

ঝিনাইদহে সৌদি আরবের বিখ্যাত আজওয়া খেজুরের চারা উৎপাদনে সফলতা

জাহিদুর রহমান তারিকঃঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মাটিতে সুদুর সৌদি আরবের সবচেয়ে বিখ্যাত আজওয়া খেজুরের চারা উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন মোস্তাক আহমেদ লাবলু নামের এক যুবক। গত ১ বছর চেষ্টার পর ১৩০টি খেজুরের চারা তৈরি করে বাগান করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিছু চারার বয়স ইতিমধ্যে ৬ মাস ও ৩ মাস হয়েছে। হাদিসে আজওয়া খেজুরের কথা জেনে নিজ উদ্যোগেই তিনি নিজে চারা উৎপাদন করে বাগান করছেন। মোস্তাক আহমেদ লাবলু ঢাকা জগন্নাথ বিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স করেছেন। তিনি কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর ছোট ভাই। এর আগে আজওয়া খেজুর ময়মনসিংহে একজন কৃষক প্রথম চারা উপাদন করে বাগান করেন। লাবলু জানান, টেলিভিশনের কৃষি অনুষ্ঠান দেখে এবং ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে আজওয়া খেজুরের ঐতিহাসিক কাহিনী জানতে পারেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষি ফার্মে তিনি আজওয়া খেজুরের চারা খোজ করেছেন কিন্তু পাননি। সর্বশেষ ময়মনসিংহ একজন কৃষককের সাথেও যোগাযোগ করেছেন সেখানেও ব্যর্থ। পরে সিদ্ধান্ত নেন আজওয়া খেজুরের চারা তিনি নিজেই উৎপাদন করবেন। গত ২০১৭ সালের দিকে সৌদি আরবে বসবাসরত তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ২৫টি আজওয়া খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন। প্রথম পর্যায়ে সেই বীজ থেকে ১৯টি চারা উৎপাদিত হলেও সর্বশেষ বেঁচে যায় ১২টি চারা। এর পর ২০১৮ সালে প্রথম দিকে সৌদি আরব থেকে বেশকিছু আজওয়া খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে তিনি ১০০টির মতো চারা উৎপাদন করে। সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ১৩০টি চারা উৎপাদন করেন। মোস্তাক এন্ড মোস্তাফিজ আজওয়া খেজুর বাগান প্রজেক্ট নামের একটি বাগান তৈরির কাজ তিনি শুরু করেছেন কালীগঞ্জ চাচড়া গ্রামের মাঠে। লাবলু জানান, নিজে বাগান তৈরির পর চারা উৎপাদন করে কৃষক পর্যায়ে এই আজওয়া খেজুর ছড়িয়ে দিবেন। প্রথমে বীজ গুলো টিস্যুর মধ্যে রেখে তার পর মাটির মধ্যে অত্যান্ত যতেœ রেখে বড় করেছেন। বর্তমানে চারা গুলোর বয়স ৩ মাস। আগের উৎপাদিত প্রায় ১২টি চারা তিনি রোপন করেছেন। বাকি ১২০টি চারা দিয়ে তিনি আজওয়া খেজুরের বাগান করবেন। আজওয়া খেজুর চারা উৎপাদন করতে তেমন খরচ হয়নি। তবে ঠিক মতো প্রক্রিয়া জানলে যে কেউ তৈরি করতে পাবেন। চারা উৎপাদন করতে লাগে বালি,মাটি আর জৈবসার। একটি খেজুর গাছ থেকে ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছরে ফল পাওয়া সম্ভব।বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর রোজার মাসসহ বিভিন্ন সময় সৌদি আরবের খেজুর কিনে খান। সবচেয়ে ভাল খেজুর ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে কিনেন তারা। আর আজওয়া খেজুর বাংলাদেশে বিক্রি হয় ৩ হাজার টাকা কেজি। এছাড়াও খেজুরের পুষ্টি গুনের কথা বিবেচনা করে তিনি চারা উৎপাদন করে নিজে বাগান করবেন এমন স্বপ্নই দেখেন।মোস্তাক আহমেদ লাবলু জানান, এই আজওয়া খেজুর সম্পর্কে বেশ কিছু হাদিস আছে। সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৩৫৬ জুমুআ ইবন আব্দুল্লাহ (রা:) সাদ (রা:) তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলল্লাহ (সা:) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রত্যাহ সকালে সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোন বিষ ও যাদু ক্ষতি করবে না এ দ্বারা। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত)হুমায়ন কবির জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সৌদি,আরবের খেজুর চাষ হচ্ছে। অনেক স্থানে কৃষকরা ফলও পেয়েছে। কালীগঞ্জে যে যুবক এই খেজুরের চারা উৎপাদন করেছে তাকে সাধুবাদ জানাই। তিনি যদি কৃষি অফিসের সহযোগিতা কামনা করেন তা করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না