সাম্প্রতিক

‘জয়বাংলা’ উৎসবে দাওয়াত নেই আ’লীগ নেতাদের

মাদারীপুরে আগামী ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ‘জয়বাংলা’ উৎসব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই উৎসবে জেলার শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের দাওয়াত দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবাদে সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে অভিযোগ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

জানা যায়, আগামী বুধবার বিকালে সরকারী নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে ‘জয়বাংলা’উৎসব নামে একটি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এতে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ কোনো নেতাকে দাওয়াত দেয়া হয়নি।

রাখা হয়নি কোনো দলীয় জনপ্রতিনিধিদের। এছাড়া অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়নি মাদারীপুর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য রোখসানা ইয়াসমিন ছুটিকেও।

এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে। এ নিয়ে সোমবার রাতে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বরাবর ক্ষোভের কথা জানিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে স্বাক্ষরিত অভিযোগে  বলা  হয়, অনুষ্ঠানে মাদারীপুর ১ ও ৩ এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদকে অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানানো হয়নি। অতিথি করা হয়েছে বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি থেকে নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যানকে।

এ ব্যপারে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির হলেও দুঃখের বিষয় অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী উপক্ষিত হয়েছে। কিছু সরকারি আমলা আর বিএনপি ঘরোনা নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করার অর্থই হচ্ছে জয়বাংলার অনুষ্ঠানকে বির্তকিত করা।

এই অনুষ্ঠানে নৌকা প্রতীকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপি নেতাকে অতিথি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা জানান, ‘অনুষ্ঠানটি নৌপরিবহন মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শাজাহান খানের পৃষ্ঠপোষকতায় হলেও আওয়ামী লীগের নেতাদের বাদ দিয়ে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। এতে আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি তাদের জন্যে অপমানের। কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধের শক্তি, আমাদের বাদ দেয়াই প্রমাণ করে মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে অপদস্ত করা। আমরা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রেীয় কমিটিকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

আগামী বুধাবারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, উদ্বোধক হিসেবে সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তা ও কয়েকজন সাবেক জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ অতিথি করা হয়েছে। অনুষ্ঠনটি আয়োজন করেছে জয়বাংলা উৎসব উদযাপন কমিটি নামের একটি ব্যক্তি নির্ভর সংগঠন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না