সাম্প্রতিক

জেলার শীর্ষ জনপ্রতিদিধিদের নাম ভাঙ্গিয়ে আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতির বেপরোয়া লুটপাট

আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতির বেশুমার লুটপাটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। জেলার শীর্ষ জনপ্রতিনিধিদের নাম ভাঙ্গিয়ে নতুন দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে লুটপাট করছে। বেপরোয়া দলিল লেখক সমিতির হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে জমির ক্রেতা-বিক্রেতা সাধারণ কৃষকশ্রেণি।

প্রায় বছর খানেক পূর্বে আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতির উপর্যপূরি লুটপাটে অতিষ্ঠ হয়ে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ সমিতির ভেঙ্গে দেন। দলিল লেখক সমিতির বেশুমার লুটপাট থেকে জমি ক্রেতা-বিক্রেতা উপজেলার হাজার হাজার কৃষক কিছু দিনের জন্য নিষ্কৃতি পেলেও আলমডাঙ্গায় আবার শুরু হয়েছে দলিল লেখক সমিতির চাঁদাবাজির মহোৎসব। নতুন করে গত ৩ সপ্তা পূর্বে আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনীর মখলেছুর রহমান সভাপতি ও একই এলাকার খাদিমপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান বাবলু সেক্রেটারির দায়িত্ব নিয়ে আবারও সমিতির কমিটি গঠণ করেছে। তারা সমিতির নামে নতুন করে শুরু করেছে বেশুমার লুটপাট। সরকারি আইন ও বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে দিন দুপুরে সকলের সামনেই চলছে এ উন্মুক্ত লুটপাট। খোদ উপজেলা চত্ত্বরে বসেই সমিতির কতিপয় নেতা কৃষকদের গলার উপর পা তুলে দিয়ে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। ভূক্তভোগিরা তাই আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতির নাম দিয়েছেন – গলাকাটা সমিতি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলিল রেজিস্ট্রি করতে সরকারকে পৌরসভা এলাকায় প্রতি লাখে শতকরা প্রায় ১০ ভাগ হারে রাজস্ব অর্থাৎ লাখে হাজার টাকা রাজস্ব জমা দিতে হয়। এছাড়া দলিল প্রতি এনসি ২৪০ টাকা, ই ফিস ১ শ টাকা ও হলফনামা ২ শ টাকা মোট সাড়ে ৪ শ টাকা দিতে হয়। জমি পৌরসভার বাইরে হলে শতকরা ৯ ভাগ হারে রাসজস্ব দিতে হয়। কিন্তু বেআইনীভাবে গঠিত এই সমিতি সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে পৌরসভা এলাকায় প্রতি লাখে ১৬/১৭ হাজার ও ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন জমির ক্ষেত্রে ১৫ হাজার করে আদায় করছেন বলে এন্তার অভিযোগ রয়েছে। আলমডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সপ্তায় ২ দিন জমি রেজিস্ট্রি হয়। প্রতিদিন গড়ে ১ শ ৩০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে বলে রেজিস্ট্রি অফিসসূত্রে জানা গেছে। সে হিসেবমতে প্রতি সপ্তায় আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতি অবৈধভাবে গড়ে ১৩ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতি মাসে ৫২ লাখ টাকা দলিল লেখক সমিতি ভাগাভাগি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রসিদবিহীন এই টাকা কোনো ব্যাংক একাউন্টে রাখা হয় না এবং সাধারণ সদস্যদেরও কোনো হিসাব দেয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সম্পাদকসহ কয়েকজন এই বিরাট অংকের টাকা প্রতিমাসে ভাগ বাটোয়ারা করেন বলে অভিযোগকারিরা জানিয়েছেন। কয়েকজন দলিল লেখক জানান, তাদের কাছ থেকে সেরেস্তা খরচ আদায় করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন খাতে অফিসারকে দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা লোপাট করা হয়। অভিযোগ উঠেছে – নিরুপায় হয়েই এ টাকা দিতে হচ্ছে জমির ক্রেতা-বিক্রেতা নিরীহ কৃষকদের। দলিল লেখক সমিতিকে চাঁদা না দিলে জমি রেজিষ্ট্রি করা হয় না। যা ভোক্তা সরক্ষণ আইনেরও পরিপন্থি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইনজ্ঞ জানান, ভোক্তা সংরক্ষণ আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইচ্ছা করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জেল জরিমানা করতে পারেন। ইতোপূর্বে যা হরিণাকুন্ডুর ক্ষেত্রে তা করা হয়েছে। অথচ খোদ উপজেলা পরিষদ চত্বরের ভেতর দিন দুপুরে দলিল লেখক সমিতির এ প্রকাশ্য লুটপাট চললেও উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনক নিরাবতা পালন করে চলেছে। জেলার শীর্ষ নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে করা হচ্ছে এ বেশুমার লুটপাট। অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি প্রকাশ্যেই দম্ভ দেখিয়ে জেলার শীর্ষ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে বলে বেড়াচ্ছেন যে, তারা সমিতি গঠণ করে দিয়েছেন এবং তাদের নির্দেশনা মত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তারা নিজে থেকে কিছুই করছেন না।
দলিল লেখক সমিতি ভেঙ্গে দিয়ে যথেচ্ছা লুটপাটের হাত থেকে বাঁচাতে হুইপের নিকট আবেদন জানিয়েছেন আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতির হাতে জিম্মি হয়ে পড়া উপজেলার কয়েক লাখ ভূক্তভোগি কৃষক।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না