সাম্প্রতিক

জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির হার কমেছে

সদ্য সমাপ্ত বছরে আগের বছরের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় আগের বছরের তুলনায় কম বেড়েছে বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব।

ক্যাবের হিসাবে গত বছর জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ছয় শতাংশ। আর এই পরিমাণ ব্যয় বৃদ্ধি হলে সেটা ভোক্তার ওপর চাপ তৈরি করে না। কারণ, গড় আয় এর চেয়ে বেশি বেড়েছে।

ক্যাবের হিসাবে ২০১৭ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছিল ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত বছর পণ্য ও সেবার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ; যেটা ২০১৭ সালে ছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।

শনিবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান।

রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবার মধ্য থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী ও ১৪টি সেবার তথ্য পর্যালোচনা করে ক্যাব এই হিসাব করেছে। তবে এ হিসাবে শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রকৃত যাতায়াত ব্যয় অন্তর্ভূক্ত হয়নি।

এক প্রশ্নে ক্যাব প্রধান জানান, তাদের এই তথ্য রাজধানীর চিত্র। তবে এর মধ্য দিয়ে সারাদেশের ব্যপারেও একটা অনুমান করা যায়।

ক্যাবের পর্যবেক্ষণ বলছে, ২০১৮ সালে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ছিল।

এই বছর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সাবানের দাম, গড়ে ২০ শতাংশ। বছর শেষে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসলেও ২০১৭ সালের তুলনায় সেটি ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ বেশি।

এর বাইরে মাছের দাম ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, সবজিতে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, পান-সুপারিতে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, তরল দুধ ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, গরম মসলা ৮ শতাংশ, মাংস তিন শতাংশ, মুরগির ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ডিমের ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, দেশি থান কাপড়ে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বিদেশি কাপড়ের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

আগের বছরের তুলনায় বেশ কিছু নিত্যপণের দাম কমেছেও সদ্য বিদায়ী বছরে। চিনির দাম ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে, দেশি মসুরের ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, আমদানি করা মসুরের ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ, ছোলার ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, দেশি রসুনের ২০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, বিদেশি রসুনের দাম ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে।

ভোজ্য তেল, গুঁড়ো দুধ, গ্যাস, বিদ্যু, জ্বালানি তেল ও রেলের ভাড়া এই বছর ছিল অপরিবর্তিত।

ক্যাব প্রধান বলেন, ‘যদি ভোক্তার আয় বৃদ্ধি বেশি হয় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে কিছু যায় আসে না। এটা সহনীয় হবে তখনই যখন কারও ২০ শতাংশ আয় বাড়ে আর জীবন যাত্রার ব্যয় যদি ৬ শতাংশ বাড়ে। তাতে কোনো ক্ষতি আনে না। আমাদের জোর দেওয়া উচিত আয় বৃদ্ধির উপর। এ ব্যপারে সরকারের পদক্ষেপ নিতে হবে।’

তবে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম মনে করেন, ২০১৮ সালে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম না বাড়ায় পরিবহনের ভাড়া বাড়েনি। তবে আমদানি শুল্কের কারণে ভোক্তাদের অতিরিক্ত এক লক্ষ ১৪ হাজার কোটি টাকা দিতে হয়েছে। তাহলে এটা যদি সমন্বয় হতো তাহলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও অনেক কমে যেত। আর এগুলো না বাড়ার কারণে এই ৬ শতাংশ বৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।’

বাসে বাড়তি ভাড়া ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরামর্শ

গোলাম রহমান বলেন, যারা গাড়িতে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে তারা বেআইনি কাজ করছে। তাদের শাস্তি হওয়া দরকার।

‘একটা কথা জোর দিয়ে বলতে চাই, আমরা যারা যাত্রী তাদের এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে। আমরা প্রতিবাদী না হলে আইন করে সুফল পাওয়া যাবে না। কেউ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে সেটা যেন দেয়া না হয়।’

স্বাস্থ্য সেবার মান ব্যয়বহুল বলেও ক্যাবের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে গ্রামের হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিত, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ লোকবলের অভাব, বেসরকার হাসপাতালের দালালের প্রকোপের কারণে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে সেবা গ্রহণকারী জনসাধারণ বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করে ক্যাব। ওষুধের উচ্চমূল্যর কারণে দরিদ্র রোগীদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

ক্যাবের সুপারিশ

জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ১২ থেকে ১৫ টি খাদ্য ও নিত্যপণ্য চিহ্নিত করে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ‘ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সুপারিশও করে র‌্যাব। ধান কাটার মৌসুমে কৃষকের থেকে সরাসরি ধান-চাল সংগ্রহ এবং ও তাদের জন্য শষ্যবিমা চালুর পক্ষে তারা।

বাস-ট্রাকের ভাড়া নির্ধারণে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন, শিক্ষা খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করতে শিক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, সুলভে ডাক্তারদের ফিসহ স্বাস্থ্য পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণের পরামর্শও দিয়েছে ক্যাব।