সাম্প্রতিক

জীবননগরে মরিচের কেজি ৫ টাকা

জীবননগরে কাঁচামরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। প্রতি কেজি মরিচ মাত্র চার থেকে পাঁচ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। এতে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। জানা গেছে, ঝাল বেশি হওয়ায় জীবননগরের মরিচের সুনাম দেশজুড়ে। মূলত দুটি মৌসুমে উপজেলায় মরিচের চাষ হয়। রবি মৌসুম অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এবং এখন বাজারে আসছে গ্রীষ্মকালীন-খরিপ মৌসুমের (মার্চ থেকে মে পর্যন্ত লাগানো) মরিচ। জীবননগর উপজেলায় এ মৌসুমে ৩২৫ হেক্টর জমিতে এ মরিচ লাগানো হয়েছে। সরকারি হিসাবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪৮৭৫ টন।

উপজেলা সদর, শিয়ালমারী, আন্দুলবাড়ীয়া ও রায়পুর হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সেখানে বেচা-কেনা চলে। আশপাশের এলাকা থেকে শত শত কৃষক আসেন মরিচ নিয়ে। হাটগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাঁচামরিচ আমদানি হওয়ায় প্রতি কেজি মরিচ ৪ থেকে ৫ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। শিয়ালমারী পশুর হাটের পাইকারি ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার তিনি পাঁচ টাকা কেজিতে মরিচ কিনেছেন। আরেক ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন বললেন, দুই সপ্তাহ ধরে মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। অথচ গত বছর এ সময়ে মরিচের দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। রায়পুর এলাকার কৃষক আবুল হাসেম বলেন, তিনি ২০ হাজার টাকা খরচ করে দুই বিঘা জমিতে মরিচ লাগিয়েছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় দেড় হাজার কেজি মরিচ হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি কেজি মরিচ চাষাবাদে খরচ হয়েছে সাড়ে ছয় টাকার বেশি। এর ওপর মরিচ তোলা ও হাটে নেয়ার খরচ আছে। পাঁচ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হওয়ায় ক্ষেতের মরিচ ক্ষেতেই রেখে দিয়েছেন। এ কারণে কাঁচামরিচ জমিতেই লাল হয়ে ঝরে যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না