সাম্প্রতিক

জীবননগরে চিনি মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল খেজুর গুড়!

চিনি থেকে খেজুরের গুড়ের দাম বেশি হওয়ায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও গাছি খেজুরের রসের সাথে চিনি মিশিয়ে তৈরি করছে ভেজাল খেজুরগুড়। জীবননগরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়ের সুনামকে পুঁজি করে এ ভেজাল গুড় তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

ভেজাল এই গুড়ের চালান চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা ও সিলেটসহ দেশের সর্বত্র। ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু রসের সাথে চিনি, পুরনো চিটাগুড় ও বিশেষ রঙ দিয়ে এ গুড় তৈরি করা হচ্ছে। যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বলে চিকিত্সকগণ জানিয়েছেন। ক্রেতারা ভেজালমুক্ত গুড় তৈরি করে তা বিক্রির দাবি জানিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমান বাজারে গুড়ের চেয়ে চিনির দাম কম হওয়ায় খেজুরগুড়ে চিনি মেশাচ্ছে অসাধু কিছু লোভী গাছি ও ব্যবসায়ীরা। ভোরবেলা গাছ থেকে খেজুর রস সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে কড়াইয়ে রস জ্বালিয়ে তা লাল বর্ণ ধারণ করলেই তাতে দেওয়া হয় চিনির মিশ্রণ। এরপর ওই রসের মধ্যে হাইড্রোজ ও ফিটকিরি মিশিয়ে গুড়ের রঙ উজ্জল করা হয়। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ৪৮ টাকা। অপরদিকে প্রতি কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা কেজি দরে।

একজন গুড় উত্পাদনকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চিনি জ্বালালে তা পরিমাণে অনেক বৃদ্ধি পায়। আর শুধু খেজুরের রস দিয়ে গুড় তৈরি করলে পরিমাণে গুড় কম হয়। সে জন্যই অসাধু কিছু গাছি ও ব্যবসায়ী খেজুরের রসের সাথে চিনি মিশিয়ে গুড় তৈরির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন বলে অভিযোগ। তিনি বলেন, চিনিমিশ্রিত গুড় দেখতে সুন্দর ও কেমিক্যালের কারণে উজ্জ্বল হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বেশি। এ কারণে অনেকেই ভেজাল গুড় তৈরি কাজে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, খেজুর রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে জ্বালালে মিশ্রণটি বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এ দিয়ে খাদ্যদ্রব্য তৈরি করে খেলে তা থেকে পেটের পীড়াজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ওই গুড় দিয়ে শিশুদের কোনো খাদ্য তৈরি করে খাওয়ালে শিশুরা লিভার ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না