সাম্প্রতিক

জাপানে অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশির হাতে হাতকড়া


জাপানে অভিবাসন প্রত্যাশী এক বাংলাদেশিকে দড়ি বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছরের অক্টোবরে তোলা ছবিটি নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। অভিবাসন কেন্দ্রগুলোতে আটক থাকা বিদেশিদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ নিয়ে সমালোচনা চলছে। জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।
জাপানে বৈধ ভিসাহীন অভিবাসন প্রত্যাশীদেরকে অভিবাসন কেন্দ্রে আটক রাখা হয়। সেখানে রেখেই তাদের বিতাড়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষ। যারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারে না এবং যারা অনেকবার অভিবাসনের জন্য আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছে, তাদেরকে আটক করা হয়। সম্প্রতি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিতে দেখা গেছে, হাতকড়া পরানো অবস্থায় মারুফ আব্দুল্লাহ নামে এক বাংলাদেশিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেছেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। তাদেরই একজন আবার মারুফের কোমরে বাঁধা দড়িটিকে ধরে রেখেছেন। গত অক্টোবরে এক প্রত্যক্ষদর্শী হাসপাতালের ভেতরে ছবিটি তুলেছিলেন। পরে আশাহি ওডা নামে একজন ছবিটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। আশাহি ওডা জাপানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আটকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে থাকেন।

জাপান টাইমস জানিয়েছে, এরইমধ্যে ছবিটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছবি নিয়ে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে। ছবির নিচে দেওয়া কমেন্টে একজন লিখেছেন, ‘এ ঘটনাকে আমার কাছে নিষ্ঠুর আচরণ মনে হলো। উনি তো চোর বা খুনী নয়।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘উনি পালিয়ে যেতে পারেন বলে যদি আশঙ্কাই থাকে তবে সীমিত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যেতো।’

জাপান টাইমস জানিয়েছে, মারুফ আব্দুল্লাহর (৩৬) কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই তার ছবি ও নাম প্রকাশ করেছে তারা। মারুফ চান, তার মতো মানুষদের সঙ্গে কিভাবে আচরণ করা হয় তা জনগণ জানুক। তিনি বলেন, ‘আমি অপরাধী নই।’ হাতকড়া ও দড়ি পরানোকে অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। টোকিওর আঞ্চলিক অভিবাসন ব্যুরোর দাবি, পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে হাতকড়া পরানো ও দড়ি বাঁধা জরুরি ছিল।

জাপানের অভিবাসন ব্যুরোর দাবি, আইন মন্ত্রণালয়ের অধ্যাদেশ মেনেই আটককৃতদেরকে হাতকড়া ও দড়ি পরায় তারা। তবে এ হাতকড়া ও দড়ি পরানোর দৃশ্য যেন জনসমক্ষে না আসে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকেন তারা। আইন মন্ত্রণালয়ের সংশোধন ব্যুরো বলছে, জনসমক্ষে যেন এমন ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাসপাতালে ইউনিফর্ম না পরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে তারা। তাছাড়া আটক ব্যক্তিকে সাধারণত হাসপাতালের পেছন দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করাতে বলা হয়।

১৯৯৫ সালে এক আসামীকে হাতকড়া পরিয়ে হাসপাতালে নেওয়ায় ওই বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ তিয়েছিল ওসাকা ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। বলা হয়েছিল, ওইভাবে বেঁধে নিয়ে যাওয়ায় আসামীর ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। পরে আদালতের ওই রুলটি বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট।