সাম্প্রতিক

চুয়াডাঙ্গা তাঁরই বিরহে পুড়ছে ====================

রহমান মুকুলঃ সরকারি আমলা-কর্মকর্তারা সাধারণত রুটিন ওয়ার্ক করে থাকেন। এই রুটিন ওয়ার্কই তাদের দক্ষতার মানদন্ড নির্ধারণ করে থাকে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার কিংবা জেলা প্রশাসকও সাধারণত রুটিন ওয়ার্ক করে থাকেন। যদিও প্রশাসনের এ দুটি পদের নির্বাহি ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু যিনি অসাধারণ; যিনি মেধা-প্রজ্ঞা আর সৃজনশীলতায় অনন্য, তিনি রুটিন ওয়ার্কের বাইরেও তাঁর প্রখর মেধা-প্রজ্ঞা আর সৃজনশীলতার স্বক্ষর রেখে চলেন। মাতৃভূমি আর তাঁর মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তা করেন। যেমনটি করে ইতোমধ্যে উদাহরণ হয়েছেন জিয়াউদ্দীন আহমেদ; চুয়াডাঙ্গার বিদায়ি জেলা প্রশাসক।

প্রিয় জিয়াউদ্দীন আহমেদ বদলীজনিত কারণে বিদায় নিচ্ছেন। তাঁর পলায়ন হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। খুব দ্রুত তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। বছরখানিক আগে তিনি জেলাপ্রশাসক হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় যোগ দিয়েছিলেন। যোগদানের পর পর অনেকের মত আমার সাথেও ফেসবুকে যোগাযোগ ছিল মূখ্যত। চুয়াডাঙ্গার কিছু প্রধান সমস্যা তুলে ধরে ফেসবুকের মাধ্যমে খোলা চিঠি লিখেছিলাম তাঁকে। তিনি খুব ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছিলেন। সে সব সমস্যার কতটা সমাধান সম্ভব হয়েছে সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে জেলাপ্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর পরই তিনি চমক সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি রুটিন ওয়ার্কের বাইরে গিয়ে নিজের সৃজনশীলতা, অসামান্য প্রজ্ঞা আর পরিশ্রমে দেশে উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। সেই সাথে চুয়াডাঙ্গার মানুষের অন্তরে ঠাই করে নিয়েছেন। এখন তিনিই শুধু বলতে পারেন ” আমি তোমাদেরই লোক।”

মাত্র ১ বছরের মাথায় কাঙ্খিত চুয়াডাঙ্গার বাস্তবতার রূপকারকে হারাতে হবে – এমনটা স্বপ্নের অতীত ছিল। এ যেন রীতিমতো শোকাবহ! চুয়াডাঙ্গা জেলার সবর্ত্র এখন তাঁর বিদায়ের সকরুণ রাগিনিতে বেদনাবিহ্বল! সবর্ত্র শোকতপ্ত হৃদয়ের আহাজারি!

একজন ব্যক্তি জিয়াউদ্দীন আহমেদ’র সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ ছিল না। প্রথমতঃ তিনি খুব ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করতেন। দ্বিতীয়তঃ নিজের ক্ষুদ্র ম্রিয়মান অবস্থান। তবে এ কথা বললে বোধ করি অত্যুক্তি হবে না যে, ” কিছু কিছু মানুষ আছেন যাঁদের সামনে দাঁড়ালে নিজকে লিলিপুট মনে হয় ” – জিয়াউদ্দীন আহমেদ তেমন একজন মানুষ।

বিশ্বাস করি – তিনি যেখানে যোগ দেবেন, আপন আলোয় উদ্ভাসিত করে তুলবেন সে ভুবনখানি। তাঁর কাঙ্খিত মাতৃভূমিতে আর কোন কবিকে লিখতে হবে না ” হে মহামানব, একবার এসো ফিরে
শুধু একবার চোখ মেলো এই গ্রাম-নগরের ভিড়ে,
এখানে মৃত্যু হানা দেয় বার বার,
লোকচক্ষুর আড়ালে এখানে জমেছে অন্ধকার।”
যুগ সঞ্চিত এ নিকষ অন্ধকার বিদূরিত করে তিনি আরও আলো আরও আলোয় ভরিয়ে তুলবেন বাংলাদেশের দশ দিগন্ত। জীবন সায়াহ্নে নিযুত আলোকরস্মির বিম্বিত কোন এক পয়মন্ত বিকেলে ধোয়া ওঠা চা’র কাপে চুমুক দিতে দিতে জীবনের খতিয়ানে চোখ বুলিয়ে নেবেন।আর স্মিত হেসে আপন মনেই বলে উঠবেন – আহ!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না