সাম্প্রতিক

চুয়াডাঙ্গা কেন অবহেলিত জেলার তালিকায় শীর্ষে

চুয়াডাঙ্গা কেন অবহেলিত জেলার তালিকায় শীর্ষে

চুয়াডাঙ্গা কেন অবহেলিত জেলার তালিকায় শীর্ষে

চুয়াডাঙ্গা কেন অবহেলিত জেলার তালিকায় শীর্ষে বর্তমান সাংসদকে তার জবাব দিতে হবে। বড় দুঃখ হয় মাননীয় সাংসদ, আমার এলাকার মানুষ অনেক আশা নিয়ে জামায়াত-বিএনপির নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নৌকা প্রতীক দেখে আপনাকে ভোট দিয়ে মহান জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছিলো। আশা করেছিলাম আপনার হাত ধরে চুয়াডাঙ্গার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হবে কিন্তু সেই চুয়াডাঙ্গা এখন দেশের মধ্যে শীর্ষ অবহেলিত জেলা হিসাবে স্থান পেয়েছে একটি বেসরকারি জরিপে। বিষয়টি বড়ই হতাশা ও কষ্টের। এমন তো হওয়ার কথা ছিলো না, কিন্তু কেন এমন হলো। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের মাননীয় সাংসদ, আপনার কাছে এলাকার জনগণ এর জবাব চায়, জবাব দিন। বঙ্গবন্ধুর রক্তে রঞ্জিত বাংলার মাটিতে কোনোদিন বেইমান ও লুটেরাদের ঠাঁই হবে না, হতে পারে না, আপনারও চুয়াডাঙ্গায় ঠাঁই হবে না। বিগত দিনের মতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দেশের আপামর জনতা আবারো ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে উপর্যুপরি তৃতীয়বারের মতো জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ। বঙ্গবন্ধুর পবিত্র রক্তের সাথে এদেশের মাটি ও মানুষ বেইমানি করতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে যে বাংলাদেশের জন্ম, বঙ্গবন্ধুকন্যা আজকের দেশমাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি উন্নয়নের চরম শিখরে পৌঁছে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। সামনের মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে পারলে আমরা সেই লক্ষে পৌঁছে যাবোই। কোনো বাধাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখতে পারবে না সোমবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গার নজরুল চত্বরে অনুষ্ঠিত দলীয় বিশাল কর্মী-সমাবেশে এ আসনের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সহ-সম্পাদক, দেশের অন্যতম সেরা জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ সম্পাদক, গণমানুষের নেতা হাশেম রেজা প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া আওয়ামী লীগ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে অন্য কোনো ব্যক্তিলীগ কিংবা কোনো এমপিলীগ থাকবে না, থাকতে পারে না। যারা আমাদের দলের নাম ভাঙিয়ে এগুলো করে চলেছেন, তারা কখনো দলের ভালো চান না। তারা সুযোগ সন্ধানী, তাদের অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। চাঁদা দিয়ে বিএনপি-জামায়াত থেকে যারা আওয়ামী লীগে এসেছেন, তারাই আজকে দলের ভিতরে ক্ষতি সাধনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে বিক্রি করা হচ্ছে। তার নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করা হয়, এগুলো কিসের রাজনীতি, এর পরিণতি কি? এসব রাজনীতির নামে অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে। আমি নৌকার জন্য ভোট চাই, আমার নিজের জন্য নয়। আগামী নির্বাচনে এই আসনে যে নৌকা প্রতীক নিয়ে আসবেন জনগণের কাছে আমি তাকেই বিজয়ী করার আহ্বান জানাই আমার প্রতিটি মিটিং-মিছিল ও সভা-সমাবেশ এবং গণসংযোগে। তাহলে কেন আমাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হবে, কেন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার আর ষড়যন্ত্র করা হবে। এসব করে কোনো লাভ নেই, কারণ আমি কোনো অপশক্তিকে ভয় পাইনা। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে আওয়ামী লীগ যদি করতে হয় তাহলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ মেনে এবং তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থা রেখে চলতে হবে। আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, আর সেই সাথে জনগণের সেবক। আমি রাজনীতি করতে এসেছি, পরিপূর্ণ একজন রাজনীতিবিদ হয়ে আপনাদের সেবা করে যেতে চাই সারাজীবন। আমি আপনাদের কাছে শুধু দোয়া চাই, আপনাদের ভালোবাসা চাই, আর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। এর প্রতিদানে এ এলাকার গরিব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের সেবা করে যাবো সারাজীবন। সাথে সাথে এলাকার স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, মাদরাসা-এতিমখানাসহ সকল ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছি, আগামীতেও সমানভাবে তা চালিয়ে যাবো। বিশাল এ পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উদীয়মান তরুণ জনপ্রিয় নেতা হাশেম রেজা উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, এ এলাকার মানুষ অনেক আশা নিয়ে আমাদের দলের সাংসদকে নির্বাচিত করেছিলেন। প্রায় ১০ বছর হতে চললো তাদের ক্ষমতাপ্রাপ্তি, কিন্তু এখনো পর্যন্ত তিনি এ এলাকার মানুষের কান্না, দীর্ঘশ্বাস বন্ধ করতে পারেননি। এলাকার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন তিনি করতে পারেননি বা চেষ্টাও করেননি। আমরা কোনোদিন দেখিনি জাতীয় সংসদে আমাদের সাংসদ এলাকার সমস্যাবলি, উন্নয়ন, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বা কোনো দাবি-দাওয়া সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছেন। কেন রাখেননি, আপনাকে তো এলাকার মানুষ ভোট দিয়ে মহান সংসদে পাঠিয়েছেন তাদের দুঃখ-বেদনার কথা তুলে ধরার জন্য। জনসভায় জননেতা হাশেম রেজা আরও বলেন, দুঃখ হয়, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার এখন দেশ পরিচালনা করছে। এখন কেন আমার দলের নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলায় জেল খাটবে, কেন তারা নিজ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর নেতাদের নিজেদের স্বার্থের বলি হবে। এর জবাব কেউ দিতে পারবেন না আমি জানি। তারপরও বলব, সবাই নিজের থেকে দলের স্বার্থকে গুরুত্ব দিন, নাহলে দল যদি আবার ক্ষমতায় না আসে, তাহলে কেউ ভালো থাকতে পারবেন না। ৭১-এর পরাজিত শক্তি এখনো সমানভাবে সক্রিয়। তারা এতটাই ভয়ঙ্কর যে মানুষের রগ কাটে, যাতে সে খুব কষ্ট পেয়ে মারা যায়। তারা আক্রমণ করবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর, এমনকী সাধারণ মানুষের ওপর। আবারো হুমকির মুখে পড়বে আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। এমনকী দেশের মানচিত্র পর্যন্ত নিরাপদ নয় ওই হায়েনাদের হাতে। তাই গ্রুপিং বাদ দিয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগ আয়োজিত কর্মী-সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ বারের সাবেক চেয়ারম্যান এবং চুয়াডাঙ্গা সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শেখ নাজিম উদ্দীন, দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এসএম মহাসীন আলী, উপজেলা যুবলীগ নেতা শাহীন উদ্দীন প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন হাউলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হক ম-ল, দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগের নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, জুড়ানপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবার রহমান, আ. ওদুদ শাহ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাহীন মোল্লা। দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জানমহাম্মদ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আ. কাদের সর্দার, হাজি ফজলুল হক, আনারুল হক আনা, ডা. তারিক, আবুল হাশেম, ভুট্টু, ফারুক, তাপস, জহুরুল, পবন, বাবরুর রহমান। পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মাবুদ মেম্বার, হাসান মেম্বার, জাহাঙ্গীর আলম, মাসুম বিল্লাহ মন্টু, আব্দুল মজিদ মোল্লা, নতিপোতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগনেতা মোহাম্মদ আলী, হারুন অর রশিদ মোল্লা, মিজানুর রহমান, ছুটি ডাক্তার, বজলু মাস্টার, মেরাজুল ইসলাম মেরাজ, আইন উদ্দীন মেম্বার, জসিম মেম্বার, আপেল উদ্দীন, আন্দুলবাড়িয়ার যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম, জীবননগরের যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম, রায়পুরের যুবলীগ নেতা শাহবুদ্দিন খান, মোহাম্মদ আলী, যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম, বিপ্লব হোসেন দিলু, সাব্বির, মিয়াজী খান, সালাহউদ্দীন, আব্দুল মজিদ, নুরুনজহির, ছাত্রলীগ নেতা রাসেল রিমু, রঞ্জু, লিটন, সাজিদুর রহমান কাদের প্রমুখ। সমাবেশের শুরুতে সময়ের সাহসী যোদ্ধা, এ আসনের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সহ-সম্পাদক, দেশের অন্যতম সেরা জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ সম্পাদক, তারুণ্যের অহংকার ও আগামী দিনের এ আসনের নৌকার কা-ারি, সমাবেশের প্রধান অতিথি গণমানুষের নেতা হাশেম রেজাকে স্থানীয় যুবলীগের নেতা-কর্মীদের পক্ষে সাংবাদিক জিল্লুর রহমান মধু ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর প্রতিদিনের মতো জননেতা হাশেম রেজার সৌজন্যে কার্পাসডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

সুত্র: আমার সংবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না

error: Content is protected !!