সাম্প্রতিক

চবিতে খালেদা জিয়া হলের নাম তুলে ফেলল ছাত্রলীগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল’ নামফলক তুলে ফেলেছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মনসুর আলমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী খালেদা জিয়া হলের সামনে গিয়ে হলের গেট ও নির্দেশিকায় থাকা নামফলক তুলে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ, জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক, অশিক্ষিত ব্যক্তির নামে হল থাকবে না। তাই চবি ছাত্রলীগের উদ্যোগে আজ জঙ্গিমাতা, এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী খালেদা জিয়ার নাম মুছে দেয়া হলো। আজ থেকে এই হলের নাম বীরপ্রতীক তারামন বিবি হল।’এ সময় তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নির্মিত হলের নাম ‘বীরপ্রতীক তারামন বিবি হল’ নামকরণের দাবি করেন।

তবে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীর নাম এভাবে মুছে দিয়ে ছাত্রলীগ প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করলেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের জননী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে হল রয়েছে তার নাম মুছে দিয়ে ছাত্রলীগ ইতিহাসের ভয়ানক কাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এহেন কাণ্ড ছাত্র রাজনীতিকে আরও এক দফা দূরে নিয়ে যাবে। দেয়াল থেকে নাম মুছে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নাম দেশের জনগণের মন থেকে মুছে দেয়া যাবে না।’

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহ আলম বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হবে। রাজনৈতিক আদর্শের কারণে এভাবে কারো নামফলক মুছে দেয়া বাজে সংস্কৃতি। খালেদা জিয়া দেশের ১৮ কোটি মানুষের অন্তরে রয়েছেন।’

খালেদা জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম বলেন, ‘কয়েকজন ছাত্র এসে নামফলক মুছে দিয়েছে শুনেছি। এ বিষয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি।

হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নাম পরিবর্তন প্রশাসনিক বিষয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া।’

বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর নিয়াজ মোরশেদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি খালেদা জিয়া হলের নামফলক মুছে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।’

নামফলক আবারও পুনঃস্থাপন করা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনের ব্যাপার। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

error: Content is protected !!