সাম্প্রতিক

গাড়িতে তুলেই ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করে তারা: পুলিশ

কৌশলে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে চট্টগ্রামে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত গাড়িচালক শাহাবউদ্দিন ও তার সহযোগী শ্যামল দে। আর ওই সময় ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তাদের আরেক সঙ্গী।

সোমবার গভীর রাতে নগরের কোতোয়ালী থানার ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার মেরিনার্স রোডে এ ঘটনা ঘটে।

শাহাবউদ্দিন (২৩) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে কোতোয়ালী থানায় সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত জানায় পুলিশ।

সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদী হাসান বলেন, গত রোববার সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে জামালখান মোড়ের পিডিবি আবাসিক এলাকার সামনে মেয়েটিকে দেখে একটি প্রাইভেটকার দাঁড়ায়।

এ সময় গাড়িতে থাকা শাহাবউদ্দিন মেয়েটির কাছে রীমা কমিউনিটি সেন্টার কোন দিকে তা জানতে চায়। মেয়েটি তা দেখিয়ে দেওয়ার পর তারা চিনবে না বলে মেয়েটিকে গাড়িতে উঠতে বলে।

“মেয়েটি গাড়িতে উঠার পর তারা অস্ত্রের মুখে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। ওই সময় সেই দৃশ্য মোবাইল ক্যামরায় তা ধারণও করা হয়। এরপর ওই ছাত্রীকে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হুমকি দেয়া হয়, নইলে ধারণ করা ধর্ষণ চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হবে।”

সোমবার মেয়েটি অভিযোগ পেয়ে ধর্ষকদের পাকড়াওয়ে অভিযান শুরু করে সিএমপির কোতোয়ালী থানা পুলিশ বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী।

পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী বলেন, প্রথমে শ্যামল (৩০)কে গ্রেফতারের পর ওই মেয়েটি তাকে শনাক্ত করে। পরে শাহাবউদ্দিনকে ধরতে গেলে মেরিনার্স রোডে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাহাবউদ্দিন মারা যায়।

মেহেদী বলেন, গাড়িচালকদের একটি চক্র এ ধরনের অপরাধ করে আসছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ ছিল।

নিহত শাহাবউদ্দিন কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার মধ্যম কয়ার বিল এলাকার মফজল মিয়ার ছেলে। নগরীর কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যারটেকে হানচুনীর বাপের কলোনিতে ভাড়া থাকতেন তিনি।

সিএমপির কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান বলেন, শাহাবউদ্দিন একজন ব্যাংক কর্মকর্তার এবং আর শ্যামল এক চিকিৎসকের গাড়ি চালাতেন। শ্যামলের গাড়িতেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়।

শ্যামলকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে কামরুজ্জামান বলেন, রীমা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে যাওয়ার পর মেয়েটি তাকে নামিয়ে দিতে বললেও তারা না নামিয়ে সার্সন রোডের দিকে চলে যায়।

“এ সময় শ্যামল গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন। শাহাবউদ্দিন মেয়েটিকে ধর্ষণ করে চালকের আসনে বসে ও পরে শ্যামল তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তারা কেউ গাড়ি থেকে না নেমে সিটের পাশ দিয়েই যাওয়া-আসা করে। পরে মেয়েটিকে গণি বেকারি এলাকায় নামিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।”

পরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরদিন সোমবার সকাল থেকেই শাহাবউদ্দিন মেয়েটিকে ফোন করে তার সাথে দেখা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। দেখা না করলে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় সে।

এরপর মেয়েটি তার ভাইকে জানিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। শাহাবউদ্দিন সোমবার সন্ধ্যায় মেয়েটিকে দিদার মার্কেটের সাফা আর্কেড কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় অবস্থান করতে বলেন।

“মেয়েটিকে সেখানে দাঁড় করিয়ে আমরা ফাঁদ পাতি। এ সময় শাহাবউদ্দিন তার অপর এক সহযোগীকে নিয়ে সেখানে আসে। মেয়েটি গাড়ির সামনে গেলে তাকে টেনে তুলে চকবাজারের দিকে দ্রুত চলে যায়।

“গাড়িটিকে ধাওয়া করে পুলিশ গাড়ির নম্বরটি বিভিন্ন স্থানে ওয়্যারলেসে মেসেজ দেয়। পরে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। গাড়িটি বিভিন্ন দিকে ঘুরে লালদিঘীর মাঠের সামনে পৌঁছালে শাহাবউদ্দিন মেয়েটিকে রেখে গাড়ি থেকে নেমে হকার্স মার্কেটের ভেতর দৌঁড়ে ঢুকে যায়।’’

পরে লালদিঘীর মাঠের সামনে থেকে গাড়িটি আটক করে মেয়টিকে উদ্ধার করা হয়।

পরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, ওই গাড়িটি একজন ব্যাংক কর্মকর্তার, সেটি চালাতেন শাহাবউদ্দিন। রাতে চকবাজার ডিসি রোড থেকে শ্যামলকে গ্রেফতারের পর ধর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি আটক করা হয়। ওই প্রাইভেটকারটি একজন চিকিৎসকের।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শ্যামল বলেছে, রোববার সকালে সে তার মালিকের ছেলেকে কলেজে পৌঁছে দেওয়ার পর শাহাবউদ্দিন তাকে ফোন করে জামালখান এলাকায় আসতে বলে। আর আগে থেকেই সেখানে শাহাবউদ্দিন অবস্থান করছিলেন। শাহাবউদ্দিনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এর আগেও এসেছিল।

নিহত শাহাবউদ্দিন সোমবার সন্ধ্যায় মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে যাকে নিয়ে গিয়েছিলেন, তার নামও শাহাবউদ্দিন। তার ঠিকানাও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এসবি