সাম্প্রতিক

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যের ৭ ঘরোয়া প্রতিকার

গর্ভাবস্থায় নারীরা অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হন। যারা প্রথমবার সন্তান ধারণ করেন, তাদের সমস্যাটা একটু বেশিই হয়।

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। সন্তান পেটে আসার পর কোষ্ঠকাঠিন্যের যন্ত্রণা বিষিয়ে দেয় জীবন।

এমতাবস্থায় অনেকে ঝুঁকির মধ্যেও পড়েন। পায়ুপথের পাশাপাশি পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। মল ঠিকমতো বের না হওয়ায় সারাক্ষণ অস্বস্তি কাজ করে।

একটু সতর্ক থাকলে গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি থেকে বাঁচা যায়। ঘরোয়া উপায়েও গর্ভকালীন এ সমস্যা থেকে প্রতিকার পাওয়া যায়।

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে প্রতিকারের কিছু উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি। আসুন জেনে নিই-

দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নারীদের দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। অনেকে দুধ খেতে পারেন না। তাদের দুগ্ধজাতীয় খাবার যেমন-পায়েশ, দধি খেতে বলেন ডাক্তাররা। দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে থাকে।

আঁশযুক্ত খাবার

শাকসবজি, ফলমূল কোষ্ঠকাঠিন্যের শত্রু। আঁশযুক্ত খাবার খেলে মল বাড়ে। কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর হয়। চিকিৎসকরা বলেন, গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর প্রথম ধাপ হল বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া।

লালশাক-পালংশাক, লাউশাক, গাজর, আলু, আঙুর, আপেল, কমলা, বেদানা, কলা-এসব খাবার খেলে গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে না। তবে পেঁপে খাওয়া যাবে না।

হালকা ব্যায়াম

যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, ফিস্টুলা হয় না। অন্তঃসত্ত্বাদেরও কিছু হালকা ব্যায়াম আছে। এগুলো অনুসরণ করলে এ সমস্যা কেটে যাবে।

দানাদার খাবার

বাদামসহ বিচিজাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে আঁশ পাওয়া যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো রাখতে পারেন। দানাদার খাবার খাওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকরাও দিয়ে থাকেন। এটি সন্তানের পুষ্টি জোগায়।

তরল খাবার

কোষ্ঠকাঠিন্যের সময় প্রচুর পরিমাণে পানি ও শরবত পান করুন। এটি পায়খানা নরম করতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে কিছু দিনের মধ্যেই আপনি ভালো ফল পাবেন।

ইসবগুল

কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে ইসবগুলোর সম্পর্ক সাপে নেউলে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যারা এ সমস্যায় ভোগেন, তারা কোনো ধরনের ভাবনা-চিন্তা ছাড়াই ইসবগুল খেতে পারেন।

লেবু পানি

লেবু পানি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে আরেকটি চমৎকার উপায়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় লেবু পানি গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। লেবুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-সি। এটি শিশুর বৃদ্ধিতেও কাজ করে। এক গ্লাস গরম পানিতে চার চা চামচ লেবুর রস দিন। এর মধ্যে সামান্য মধু যোগ করুন। দিনে দুবার পান করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

error: Content is protected !!