সাম্প্রতিক

খাশোগি হত্যার সৌদির স্বীকারোক্তি: আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে তুরস্কের ইস্তানবুলে কনস্যুলেটের মধ্যেই হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে সৌদি আরব। গত ২ অক্টোবর ঘটনার পর থেকে অস্বীকার করে আসলেও শনিবার (২০ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো এক বিবৃতিতে বিষয়টি স্বীকার করলো সৌদি।

রাজতান্ত্রিক সৌদি সরকার সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। একইসঙ্গে এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউজসহ অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

শনিবার ভোরে এক বিবৃতিতে খাশোগির হত্যাকাণ্ডে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, সবরকম প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে হবে এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে খুঁজে বের করতে হবে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শুক্রবার রাতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে, খাশোগি ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে নিহত হয়েছেন।

এ সম্পর্কে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ‘প্রথমে বলা হলো খাশোগি কনস্যুলেট ত্যাগ করেছেন এবং তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সৌদি আরবের কোনো হাত নেই। এখন বলা হচ্ছে, সৌদি যুবরাজের (মোহাম্মাদ বিন সালমান) অজ্ঞাতসারে কনস্যুলেটের ভেতরেই খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। নতুন এই ব্যাখ্যা মেনে নেওয়া কঠিন।’

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি টেড লিউ সৌদি আরবের সর্বশেষ ঘোষণাকে ‘অর্থহীন’ আখ্যায়িত করেছেন। তিনি তুর্কি ও মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘সংঘর্ষে’ নিহত ব্যক্তির দেহ করাত দিয়ে কেটে টুকরা টুকরা করার প্রয়োজন ছিল না।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আবাসিক প্রাসাদ হোয়াইট হাউজ সৌদি আরবের স্বীকারোক্তির ব্যাপারে ভিন্নরকম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেছেন, জামাল খাশোগির গুম হওয়ার ব্যাপারে সর্বশেষ তদন্তের যে ফলাফল সৌদি আরব প্রকাশ করেছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে সন্তোষ প্রকাশ করছে হোয়াইট হাউজ।

উল্লেখ্য, সৌদি যুবরাজ সালমানের কট্টর সমালোচক ছিলেন জামাল খাশোগি। আমেরিকায় স্বেচ্ছা-নির্বাসনে থাকা প্রথিতযশা এই সাংবাদিক তার তুরস্কে থাকা বান্ধবীকে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গত ২ অক্টোবর (মঙ্গলবার) তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের সৌদি কনস্যুলেটে যান। কিন্তু সেখান থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি। কনস্যুলেটে প্রবেশের পর খাশোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছিলো।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না