সাম্প্রতিক

ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলে নিহত ৭৬, নিখোঁজ ১৩০০

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে। এ ছাড়া নিখোঁজের সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবানল শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ পর শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। দাবানলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। খবর সিএনএন ও বিবিসির।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ১০ হাজার দমকলকর্মী কাজ করছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে বের করতেও কাজ করছেন শত শত কর্মী।

দাবানলে রাজ্যটির লাখ লাখ একর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। এর আগে ১৯৩৩ সালে লসঅ্যাঞ্জেলেসের গ্রিফিত পার্কে ভয়াবহ দাবানলে ২৯ জন নিহত হয়েছিল। চলমান দাবানলের ক্ষতির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন।

এক সপ্তাহ আগে শুষ্ক আবহাওয়া ও ঝড়ো বাতাসের কারণে বনাঞ্চল থেকে সৃষ্ট দাবানল দ্রুত দেশটির জনবসতিতেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে প্যারাডাইস শহর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। গৃহহীন হয়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা।

দাবানলে নিহতদের বেশিরভাগই প্যারাডাইস শহরের বাসিন্দা বলে জানানো হয়েছে। এখনও পুরোপুরি আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।

ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও আগুন নির্বাপক বিভাগের মুখপাত্র স্কট ম্যাক্লিন বলেন, শহরটি ধ্বংস হয়ে গেছে, সব কিছু শেষ, কিছুই আর বাকি নেই।

প্যারাডাইস শহর ভস্মীভূত করে দাবানল আঘাত হানে ক্যালিফোর্নিয়ার আরেক সৈকত শহর মালিবুরে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলের ঘটনায় বন বিভাগের দুর্বল ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন।

ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া আনা ডিজে নামে এক নারী জানান, দাবানলে তার বাবা মারা গেছেন। দাবানল থেকে বাঁচতে তারা খুব অল্প সময় পেয়েছেন; ওই সময়ের মধ্যে তারা ঘরবাড়ি ছাড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু গোছানো জিনিসপত্র আনতে ঘরের ভেতরে গেলে তা ধসে পড়ে এবং তার বাবা মারা যান।

আনা বলেন, আগুনের হাত থেকে বাঁচতে তিনি তার কুকুরকে নিয়ে প্রতিবেশীদের পুকুরে রাত কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ধারণা করতে পারিনি আগুন এতটা তীব্র গতিতে ধেয়ে আসবে। আগুনে টায়ার গলে যাওয়ায় তিনি গাড়ি নিয়ে কোথাও যেতে পারেননি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

error: Content is protected !!