সাম্প্রতিক

কুষ্টিয়া ইবি থানা এলাকায় বাড়ছে খুনের ঘটনা, বলি হচ্ছেন নিরীহ মানুষ

এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা এলাকার ইউনিয়নগুলোতে সম্প্রতি খুনের ঘটনা বাড়ছে। এসব খুনের বলি হচ্ছেন নিরীহ মানুষ। রাজনৈতিক নেতা ও মাতবররা তাদের স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে বছরের পর বছর এসব বিরোধ জিইয়ে রাখছেন। সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হলেও লাভবান হচ্ছে কিছু পুলিশ ও দালাল শ্রেণির লোকজন। গত ৩ বছরে তিনটি ইউনিয়নে সামাজিক বিরোধের বলি হয়েছেন কমপক্ষে ৭ জন। সর্বশেষ আব্দালপুর ইউনিয়নে খুন হয়েছেন মইনুদ্দিন নামে একজন।

ইবি ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা হালিমের বাবা মইনুদ্দিন হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও মূল হোতাদের ধরতে পারেনি। আসামিদের অনেকেই গ্রামে ঘুরলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ হত্যা মামলার আসামিদের না ধরলেও এলাকার নিরীহ লোকজনকে ধরে সন্দেহভাজন আসামি দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠাচ্ছে।

সম্প্রতি কয়েক বছরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানা এলাকার ৭টি ইউনিয়নে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে গত তিন বছরে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এর আগে গত তিন বছরে ঝাউদিয়া ইউনিয়নে দুই আওয়ামী লীগ নেতার বিরোধে প্রাণ গেছে ৬ গ্রামবাসীর। লুটপাট হয়েছে বহু বাড়িঘর। আর স্বাধীনতার পর এই এক ইউনিয়নে প্রাণ গেছে ৩০ জনের বেশি লোকের।

কয়েক মাস আগে এ ইউনিয়নে শান্তি ফেরাতে পুলিশের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত নিজে উদ্যোগী হয়েছেন। তিনি মিটিং করে আওয়ামী লীগ নেতাদের একত্রে বসিয়ে সামাজিক বিরোধ মিটিয়ে দেন। বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র জমা দেয় গ্রামবাসী। আপাতত এ ইউনিয়নে শান্তি ফিরেছে। ঝাউদিয়ার পাশাপাশি জিয়ারখী ইউনিয়নের কমলাপুরেও সামাজিক শান্তি ফেরাতে উদ্যোগ নেন পুলিশ সুপার। এখানেও বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র জমা নেওয়া হয়।

পুলিশের দৃশ্যমান নানা কর্মকাণ্ডের মধ্যেও সর্বশেষ আওয়ামী লীগ নেতাদের আক্রমণে আব্দালপুর ইউনিয়নে প্রাণ গেছে নিরীহ আওয়ামী লীগ কর্মী মইনুদ্দিনের।

স্থানীয়রা জানান, সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ইসাহক আলী মাস্টারের ছেলে আলী হায়দার স্বপন দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়ী হন। এর পর থেকে তার প্রতিপক্ষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফাসহ তার কিছু সমর্থক নানাভাবে আলী হায়দারকে হয়রানি করে আসছে। এসব নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ভেতরে ভেতরে বিরোধ বাড়ছিল।

এলাকার লোকজন জানায়, সর্বশেষ ৫ জুনয়ারি রাতে গোলাম মোস্তফার লোকজন দেশি অস্ত্র ঢাল, ফলা নিয়ে সংগঠতি হতে থাকে। খবর পেয়ে রাতেই চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিষয়টি অবহিত করে মোস্তফাকে থামানোর অনুরোধ করেন। তার পরও ৬ জনুয়ারি আওয়ামী লীগ কর্মী মইনুদ্দিনকে হত্যা করা হয়।

আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন বলেন, ‘নির্বাচনের আগে থেকেই মোস্তফার লোকজন মারামারি করার প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। সদরের এমপি হানিফ ভাই এলাকায় শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়ার পর আমরা মারামারি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে আসছি। তারা আমাদের ওপর সব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা হালিম বলেন, মামলার পর পুলিশ আসামিদের ধরার ব্যাপারে উদাসীন। পুলিশ এলাকায় পাহারা বসিয়েছে। আর নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করছে। বিষয়টির প্রতিকার হওয়া দরকার। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গোলাম মোস্তফা ও তার লোকজন পলাতক রয়েছে।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ বলেন, আমরা আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। হামলাকারীদের সব তথ্য ও সেদিনের ছবি পুলিশের কাছে আছে। এদিকে আব্দালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, দলীয়ভাবেও চেষ্টা করা হবে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
সূত্র; সমকাল