সাম্প্রতিক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ভবিষ্যৎ খাদ্য সংকটে !!

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দিনে দিনে বেড়ে চলেছে তামাক চাষ ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে ফসলি জমি। সচেতন মহলের মানুষ ও গবেষক গন মনে করছেন ভবিষ্যৎ তামাক চাষ হতে থাকলে চরম খাদ্য সংকটে পড়বে দৌলতপুর উপজেলার মানুষ। কারন এই উপজেলার আবাদি জমিন এতটা উরবর যে, সকল প্রকার সবজী,ধান, গম,মশুরি,সুলা, কলায়, আবাদে প্রচুর ফলন হয় । আর এই উরবরতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যে মৌসুমে গম,মশুরি, কলায়,আলু,চাষ হয় ঠিক সেই সময়ে। মাদকের প্রথম ধাপ, বিড়ি সিগারেট তৈরির তামাক চাষের টারগেট নিয়েছে বিভিন্ন কম্পানি। কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না তামাক চাষ।

শুরুটা বৃহত্তর রংপুরে হলেও তামাক চাষ ক্রমেই পদ্মা নদী ধোয়া কুষ্টিয়া দৌলতপুরের চরাঞ্চলেও দিন দিন বাড়ছে বিষবৃক্ষ তামাক চাষ। যে জমিতে কিছুদিন আগেও ধান, গম, পাট আখ ও সবজী আবাদ হতো এখন সে সব জমিতে এবার ৪ হাজার ৫ শত ৫০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। তামাক কোম্পানিগুলোর কৌশল ও লোভনীয় অফারে প্রতিবছর শত শত একর ফসলি জমি চলে যাচ্ছে বিষবৃক্ষ নামক তামাক চাষের আওতায়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে খাদ্য নিরাপত্তা।

দৌলতপুর উপজেলা আবাদী জমিন ৩২ হাজার ৩ শত ৫০ হেক্টর । তার মধ্যে দৌলতপুর সদর ইউনিয়ন, রিফায়েতপুর ইউনিয়ন,পিয়ারপুর ইউনিয়ন,আদাবাড়ীয়া ইউনিয়ন, বোয়ালীয়া, ইউনিয়ন,সহ চর অনঞ্চলে ও এ বছর বেড়েছে উল্লেখ যোগ্য হারে তামাক চাষ। এ বিষয়ে তামাক চাষিদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান,আমার আবাদি জমিন, ৮ বিঘা, কেউ বলে ৫ বিঘা, কেউ বলে ৪ বিঘা তাদের যার যে টুকু আবাদি জমিন তাতে চাষ হয়েছে তামাক। তাদের প্রশ্ন করা হয় ভবিষ্যৎ খাবেন কি আপনারা খাদ্যযদি উৎপাদন না করেন খাবার আসবে কোথায় থেকে। তামাক চাষিরা জানান তামাক বেচে ঐ এলাকায় থেকে ক্রয় করবো না হলে সরকার আনবে কিনবো।

এ বিষয়ে পিপলস কলেজে অধাক্ষ্য সেলিম আহমেদ জানান, আমাদের এই উপজেলা বৃহত্তম উপজেলা। এবং এই উপজেলার আবাদি জমিন অতি উর্বর। তাই এই এলাকাটাকে তামাক চাষের জন্য টার্গেট করেছে কিছু অসাদু ব্যক্তি।আমার ধারনা এভাবে তামাক চাষ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যৎ খাদ্যের যে লক্ষমাত্রা দৌলতপুর নিয়ে সেটা ব্যহত হবে।

উপজেলা বাসী জানান, এই ভাবে তামাক চাষ বাড়তে থাকলে পুরোদমেই বন্ধ হয়ে যাবে অন্যান্য ফসলী আবাস। অন্যান্য আবাদের চেয়ে তামাক চাষ লাভজনক হওয়ায় এ পেশায় জড়িয়ে পড়ছে কৃষকরা সহ তাদের পরিবারের সদস্যরা। তামাকের আবাদ বেড়ে যাওয়ায় দৌলতপুরের মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মাদক প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ন আহ্বায়ক কবির পান্না জানান, বিড়ি সিগারেট খাওয়া থেকে মাদক খাওয়া শুরু করে এবং দৌলতপুর উপজেলাতে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা অনেক বেশী তার কারন আমি দেখতে পাচ্ছি এক মাত্র তামাক চাষ।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা সানুয়ার আলী জানান, দৌলতপুর উপজেলায় বাংলাদেশের সব চেয়ে প্রতিবন্ধী ও অটিজম প্রবন এলাকা তার কারন হিসেবে গবেষক গন দুষছেন তামাক চাষকে। গর্ভ অবস্থাতে তামাক চাষের কাজের সাথে সমপৃক্ত থাকাতে এই উপজেলায় প্রতিবন্ধী ও অটিজম শীশুর জন্ম হচ্ছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার তাফস কুমার ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন তামাক চাষে যুক্ত থাকলে ক্যান্সার, পেট, বুক ও ঘাড়ে ব্যাথা সহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী, হার্ড সস্ট্রক হওয়া কারন হচ্ছে তামাক সেবন ও গর্ভাবস্থায় তামাক চাষের কাজে নিয়জিত থাকলে বাচ্চা প্রতিবন্ধী হওয়ার আশংকা থাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃ্ষি অফিসার এ কে এম কামরুজ্জামান জানান, দৌলতপুর উপজেলা আবাদী জমিন ৩২ হাজার ৩ শত ৫০ হেক্টর ।তার ভিতরে এ বছর ৪ হাজার ৫ শত ৫০ হেক্টর জমিনে তামাক চাষ হয়েছে। আমরা সব সময় তামাক চাষ না করার জন্য চাষিকে বলে আসছি। এবার প্রায় ৪০০ বিঘা মত বেশি তামাক চাষ হয়েছে।