সাম্প্রতিক

কুমার নদের উৎপত্তি ও প্রবাহ

আমিরুল ইসলাম চৌধুরীঃ

কুমার নদের উৎপত্তি প্রধানত: পদ্মা (তথা গঙ্গা) থেকে, তারপর সর্বশেষে পশুর নদী হিসাবে হিরণ পয়েন্ট এবং দুবলার চরের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

পদ্মা (তথা গঙ্গা) থেকে মাথাভাঙ্গা নদী হিসাবে উৎপন্ন হয়ে, হাটবোয়ালিয়ার কিছু উত্তরে মাথাভাঙ্গা দু’ভাগে (মাথাভাঙ্গা এবং কুমার নদ হিসাবে) বিভক্ত হয়ে মাথাভাঙ্গা মোটামুটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে এবং কুমার নদ পূর্ব (কিছুটা দক্ষিণ-পূর্ব) দিকে প্রবাহিত হয়েছে। কুমার নদ খুবই সর্পিল।

বর্তমানে আলমডাঙ্গার কাছাকাছি কুমার নদের অরজিনাল প্রবাহকে ডিটেক্ট করা কষ্টকর, এর প্রধান কারণ জিকে (গঙ্গা-কপোতাক্ষ) প্রোজেক্টের ক্যানাল। জিকে প্রজেক্টের ক্যানাল ভেড়ামারার উত্তর-পূর্ব এলাকা তথা হার্ডিঞ্জ সেতুর কিছুটা দক্ষিণে পদ্মা নদী থেকে খনন করে ভেড়ামারা-মিরপুর পার্শবর্তী এলাকা হয়ে আমলার কাছে সাগরখালী নদীর সাথে মিলিত করে জিকে প্রজেক্টের ক্যানাল সুতাইল-পাইকপাড়ার কাছে অরজিনাল কুমার নদের সাথে মিলিত করা হয়। সেইজন্য অরজিনাল কুমার নদের প্রধান প্রবাহ হারিয়ে গেছে।

আলমডাঙ্গার (তথা আনন্দধামের) পূর্ব দিকে যে sluice gate টি দিয়ে যে নদের প্রবাহ বক্শীপুরের দিকে গেছে ঐটি অরজিনাল কুমার নদ (আনন্দধামের ব্রীজ থেকে সাত-কপাট পর্যন্ত কুমার নদ নহে, এটি খনন কৃত জিকে প্রজেক্টের ক্যানাল; এর দক্ষিণে, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত সবই জিকে প্রজেক্টের অংশ ) |

আলমডাঙ্গা-বকশিপুর-পাটিকাবাড়ী-ভোদুয়া-জমাজমি-ঘোষবিলা-ঝাউদিয়া হয়ে জিগজ্যাগ ভাবে খুবই সর্পিল আকারে মোটামুটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে শৈলকুপা হয়ে আরো দক্ষিণে, দক্ষিণ-পূর্বে প্রবাহিত হয়ে মাগুরার পর কুমার নদ নবগঙ্গা নাম ধারণ করে (এখানে উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রামের বাদ পড়তে পারে)।

নড়াইলের কাছাকাছি নবগঙ্গা বিভক্তি হয়ে চিত্রা নদী নাম ধারণ করে, চিত্রা আরো দক্ষিণে যেয়ে মধুমতির সাথে মিলিত হয়ে রূপসা নদী নাম ধারণ করে (এখানে উল্লেখ্য মধুমতি এবং গড়াই একই নদী; উত্তরে গড়াই, দক্ষিণে মধুমতি)।

রূপসা খুলনার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মংলা পোর্টের কাছে মংলা নদীর সাথে মিলিত হয়ে পশুর নদী নাম ধারণ করে। তারপর পশুর নদী সুন্দরবনের মধ্যে প্রবাহিত হয়ে হিরণ পয়েন্ট এবং দুবলার চরের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না

error: Content is protected !!