সাম্প্রতিক

কর্মঠ মানুষ আল্লাহর প্রিয়

 কাজ না করে অলস সময় কাটানো ইসলামে সমর্থনযোগ্য নয়। কর্মঠ মানুষ সমাজে যেমন সমাদৃত হয় তেমনি আল্লাহর কাছেও প্রিয়। যে নিজ হাতে রোজগার করে জীবিকা নির্বাহ করে সেই হাতকে বলা হয়েছে শ্রেষ্ঠ। অলস মস্তিষ্ককে বলা হয়েছে শয়তানের আখড়া। মানুষ যখন নিষ্কর্মা হয়ে বসে থাকে তখনই তার মন পাপ কাজের দিকে ধাবিত হয়। নিছক পার্থিব কাজে যেমন অলসতা নিন্দনীয় তেমনি দীনের কোনো কাজে পিছিয়ে থাকাও কোরান-হাদিসের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়।  অনেক সময় ভালো কাজ করতে চাইলে শয়তান এসে বাদ সাধে। শয়তানের ধোঁকায় অনেক সময় মানুষ অলসতায় নিমগ্ন হয়ে পড়ে। কোনো কাজ করার সময় যখন অলসতা দেখা দেয় তখন সেই সময়টি হয় মানুষের জন্য পরীক্ষার। মন চাইবে অলসতার কাছে হার মেনে নিতে। কিন্তু সেটা মানা যাবে না। সাহসিকতা ও কর্মঠ মানসিকতার দ্বারা অলসতার মোকিবেলা করতে হবে।
মনে রাখবেন, একবার অলসতাকে প্রশ্রয় দিলে এর প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।  থানভী (র.) বলেছেন, ‘ইবাদত করতে অলসতাবোধ হলে ইবাদতের মাধ্যমেই অলসতাকে মোকাবিলা করতে হবে। আর কোনো পাপের ইচ্ছা জাগলে এর মোকাবিলা করবে ওই পাপ কাজটি পরিত্যাগের মাধ্যমে’।

শয়তান সব সময় চায় বিভিন্ন ধোঁকার মাধ্যমে মানুষকে ভালো কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখতে। অলস ভাবটি মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করে দেয় শয়তান। এ জন্য আজকের কোনো ইবাদত আগামীকালের জন্য ফেলে রাখা যাবে না। নেক কাজ করতে চাইলে এখনই করে নাও। মূলত অলসতার মোকাবিলা করাই অলসতার চিকিৎসা। অলসতার কাছে হিম্মত ত্যাগ করলে এর চিকিৎসা সম্ভব নয়। বরং তার সামনে বুক টান করে দাঁড়াতে হবে। আজকের যুগে মুসলমানরা সব দিক থেকে পিছিয়ে পড়ার কারণ হলো অলসতা। এই ব্যাধিটি মুসলিম জাতিকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। অন্যান্য জাতি যখন বিরামহীন কর্মে জ্ঞান-বিজ্ঞানসহ সবক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে তখন মুসলমানরা অলসতার চাদরে আচ্ছাদিত থেকেছে। আজ মুসলিম বিশ্বে যে স্থবিরতা বিরাজ করছে এর জন্য দায়ী অলসতা। ইতিহাস-ঐতিহ্যকে পুঁজি করে কর্মতৎপর হলে মুসলমানরাই হতো বিশ্বের সেরা জাতি। ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে মুসলমানদের আজ সজীব হয়ে ওঠার বড় প্রয়োজন। অলসতা ছেড়ে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত কাজের মাধ্যমে আবারো প্রমাণ করা, মুসলমানরাই সেরা জাতি।