সাম্প্রতিক

আলমডাঙ্গা চমক স্কুলের ২ শিশু শিক্ষার্থিকে বেদম প্রহারের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের

তুচ্ছ কারণে আলমডাঙ্গা চমক স্কুলের ২ শিশু শিক্ষার্থিকে বেদম প্রহারের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা জানতে শুরু করেছে তদন্ত।
জানা গেছে, তুচ্ছ কারণে আলমডাঙ্গার চমক স্কুলের ২ শিশু শিক্ষার্থীকে বেদম মারপিটের ঘটনায় অভিভাবকের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বেদম মারপিটের শিখার ৫ম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থি আব্দুল গাফফারের বাবা আসাননগরের আমজেত আলী বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহার দায়েরকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোমলমতি ২ শিশু শিক্ষার্থি থানায় উপস্থিত থেকে ওই নির্মম ঘটনার বর্ণনা দেয়।
এদিকে, গতকালই আলমডাঙ্গা থানার এস আই আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা জানতে তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি গতকাল ঘটনাস্থল, নির্যাতনের শিকার ২ শিশু, প্রত্যক্ষদর্শি শিক্ষার্থিদের সাথে কথা বলেছেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার আলমডাঙ্গার কালিদাসপুরে অবস্থিত চমক মডেল স্কুল অবস্থিত। গতকাল বৃহস্পতিবার ৫ম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল গাফফার খাতায় একটি কবিতা লেখেন। সেটি পড়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্র টুটুল। এ বিষয়টি জানতে পেরে কঞ্চির লাঠি নিয়ে ছুটে যান স্কুলের শিক্ষক আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ার খবির উদ্দীনের ছেলে সিয়াম। তিনি ৫ম শ্রেণির কোমলমতি শিশুছাত্র আব্দুল গাফফার ও ৮ম শ্রেণির ছাত্র টুটুলকে বেধড়ক পেটান। শিক্ষার্থিদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ হলেও সিয়াম উদ্দীন নির্বিচারে দুই শিশুকে পিটিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শি শিক্ষার্থিরা জানায়, বেদম মারপিটের এক পর্যায়ে ৫ম শ্রেণির শিশু আব্দুল গাফফার মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর পেটাতে শুরু করেন ৮ম শ্রেণির ছাত্র টুটুলকে। এঘটনায় হতবাক হয়েছেন অভিভাবক মহল। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবকমহল ও এলাকাবাসী স্কুল চত্বরে ছুটে যান। তারা অভিযুক্ত শিক্ষক সিয়ামকে খুঁজতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিয়াম আগেই পালিয়ে যায়। এমনকি চমক মডেল স্কুলের পরিচালক কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদ পারভেজ স্কুল বন্ধ করে দ্রুত সটকে পড়েন। তাকেও খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া যায়নি। একাধিকসূত্র জানিয়েছে, সিয়াম পালিয়ে আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ার এক পুলিশ কর্মকর্তার আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে তার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য, মাসুদ পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে এ স্কুলটি পরিচালনা করে আসছেন। পূর্বে চমক মডেল স্কুলের নাম ছিল চমক কোচিং সেন্টার। প্রথমে কলেজপাড়া ও পরে আলমডাঙ্গা শহরের দারুস সালামের সামনের এক বিল্ডিং- এ চমক কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা হয়। ইতোমধ্যে মাসুদ পারভেজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ ও কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করলে চমক কোচিং সেন্টারের নাম পরিবর্তনপূর্বক চমক মডেল স্কুল নামকরণ করে তা কালিদাসপুরে স্থানান্তরিত করেন। একেবারে নিজের কর্মস্থলের পাশে। সম্প্রতি কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি অফিসার চমক মডেল স্কুলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। জব্দ করেন হিসেব নিকেশের খাতাপত্র। একই সাথে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর নির্দেশ দেন। অবৈধভাবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থিদের ক্লাস বন্ধের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের কয়েক দিন পর আবারও চমক মডেল স্কুলে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যাতে মামলা না হয় ও চমক মডেল স্কুলটি চালিয়ে যেতে পারেন সে জন্য এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের নিকট ধর্ণা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।