সাম্প্রতিক

আলমডাঙ্গায় একদিকে আওয়ামীলীগ শিবিরে চলছে অপেক্ষার প্রহর গোনা অন্যদিকে বিএনপিতে আতঙ্ক

 আলমডাঙ্গায় একদিকে আওয়ামীলীগ শিবিরে চলছে অপেক্ষার প্রহর গোনা অন্যদিকে বিএনপি শিবিরে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলা ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা -১ নির্বাচনি আসন। আসন্ন ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান সাংসদ হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সামসুল আবেদীন খোকন, বরেণ্য চিকিৎসক প্রফেসর মাহবুব হোসেন মেহেদী, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম পানু ও বিসিসিআই সভাপতি ডায়মন্ড ওয়াল্ডের স্বত্বাধিকারী দীলিপ কুমার আগরওয়ালা। সকলেই ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। কিন্তু কে পাচ্ছেন মনোনয়ন? এ নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই আলমডাঙ্গায়। দলীয় নেতৃত্ব জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন-এমপি’র হাতে। সে ক্ষেত্রে বেশিরভাগ দলীয় নেতাকর্মির প্রত্যাশা তাকে ঘিরেই। তবে অনেক আগে থেকে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ৩ শ আসনে যাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তাদেরকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র ৭০ টি আসন বাদে। এ ৭০টি আসনের নির্বাচিতদের দুর্নীতি ও অসুস্থ্যতার কারণে তাদেরকে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে একাধিকবার পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। চুয়াডাঙ্গা-১, ঝিনাইদহের ২টি, কুষ্টিয়া-৪ ও মেহেরপুর-১ আসনসহ ৭০টি আসন নতুনমুখ এবং জোটের শরিকদের জন্য রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এমন সংবাদ দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পেয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সাংসদ হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের পক্ষে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে দলীয় নেতা-কর্মিদের মনে। তারপরও নিজ আসনে সাংসদ হুইপ ছেলুনই সাংগঠণিকভাবে সবচে’ শক্তিশালী প্রার্থি।
তিনি যদি এবার মনোনয়ন না পান তাহলে কে পাবেন? জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সামসুল আবেদীন খোকন নাকি বরেণ্য চিকিৎসক প্রফেসর মাহবুব হোসেন মেহেদী অথবা কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম পানু? না বিসিসিআই সভাপতি ডায়মন্ড ওয়াল্ডের স্বত্বাধিকারী দীলিপ কুমার আগরওয়ালা? এ নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশিদের নিজস্ব বলয়সহ আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মিদের মাঝে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। কার কপালে জুটবে রাজটীকা তা নিয়ে আলোচনারও শেষ নেই।

অন্যদিকে, বিএনপি শিবিরে ভিন্ন ধরণের দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। কে দলীয় বা জোটের মনোনয়ন পাবে তা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই বিএনপি দলীয় নেতাকর্মিদের মাঝে। বেশির ভাগ নেতাকর্মি পুলিশি গ্রেফতারের ভয়ে গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। যাদের বাইরে দেখা যায় তাদের একটা অংশ হয় আওয়ামীলীগের সাথে মিলেমিশে সযতেœ সংযত হয়ে চলেন। তাদের মুখে প্রকাশ্যে ভোট নিয়ে কোন মন্তব্য শুনতে পাওয়া দুষ্কর। তারপরও বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মি ও সমর্থকদের সাথে কথা বলে নাম না প্রকাশের শর্তে অনেকে জানিয়েছেন, কে মনোনয়ন পাছেন দুদু না অহিদুল সেটা বড় কথা না। আসল দুশ্চিন্তা অন্য জায়গায়। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি সমর্থক বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে সেটাই মঙ্গল হবে। আর কত দিন গ্রেফতার ও নির্যাতন সহ্য করবে বিএনপি সমর্থক ও নেতাকর্মিরা? তারচে’ নির্বাচনে অংশ নিলে এ গোর আযাব থেকে পরিত্রাণ হতে পারে।
তবে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের দাবি – নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনিসহ একেবারে মাঠপর্যায়েও ছক সাজিয়ে রেখেছে সরকার। তাদের অধীনে নির্বাচনে গেলে বিএনপির পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। এতে একদিকে অবৈধ উপায়ে গঠিত সরকারকে যেমন বৈধতা দেওয়া হবে, অন্যদিকে, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর যে সকল নেতাকর্মি ও সমর্থকরা বিএনপির পক্ষে ভোটের মাঠে নামবে তাদের উপর নতুন করে শুরু হবে অত্যাচার, মামলা-হামলা ও জেলজুলুম। এমন দুশ্চিন্তায় বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মি ও সমর্থকের কপালের ভাঁজ গভীর ও দীর্ঘতর হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

error: Content is protected !!