সাম্প্রতিক

আমার সফল বক্তা হয়ে ওঠার গল্প

একজন বক্তার প্রথম কাজ হচ্ছে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা। আমি ব্যক্তিগত জীবনে যে রকম আচরণ করি কোনো অনুষ্ঠানে লেকচার দেবার সময়ও ঠিক একই রকমভাবে নিজেকে উপস্থাপনের চেষ্টা করি। অনুষ্ঠানের ধরন বুঝে পোশাক পরি। ব্যক্তিগত জীবনে আমি একজন কালচারাল মানুষ এবং বক্তৃতা দেবার সময়ও নিজেকে কালচারাল হিসেবে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করি। তাই উপস্থিত সকলের কাছে আমার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্টও হয় না। কিন্তু আমি যদি ফরমাল পোশাক পড়ে কোনো অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেবার চেষ্টা করতাম, সকলের কাছে মনে হতো আমি মেকি কোনো কিছু করতে চাচ্ছি এবং বিষয়টি দর্শক-শ্রোতাদের কাছে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সুতরাং বক্তৃতা দেবার সময় আমি যেমন, তেমনই থাকার চেষ্টা করি। অতিরঞ্জিত কোনো কিছু করে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করি না।

অনেক বক্তা বক্তৃতা দেবার সময় খুব বেশি উপদেশ কিংবা খুব তথ্য দিয়ে থাকেন। আমি এমনটার কিছুই করি না। মানুষ সব সময় উপদেশ পছন্দ করে না। ফলে অতিমাত্রায় উপদেশ কিংবা তথ্য দুটোই বক্তাকে লোকজনের কাছে বিরক্তিকর করে তুলবে। অতিরিক্ত উপদেশ কিংবা তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে আমি গল্প বলতে পছন্দ করি। গল্পের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বিষয় উপস্থাপন করার প্রয়াস করি।

হতে পারে আমি ছোট কোনো অনুষ্ঠান বক্তৃতা করছি। কিন্তু আমার কাছে সেটা কোনো মেটার মনে হয় না। আমি চেষ্টা করি আমার সর্বোচ্চটা উপস্থাপন করার। কারণ আমার সামনের দর্শক কিংবা শ্রোতাই আমার দেওয়া তথ্য-উপাত্ত এক বাক্য মেনে নেবে। ফলে ভুল তথ্য দিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করা আমি এড়িয়ে চলি। যেটা আমি নিজে নিশ্চিত নিই সেই তথ্য থেকে বিরত থাকি।

আমি বক্তৃতা দেবার সময় স্বাভাবিক থাকি। স্বতস্ফুর্তভাবে বিষয় রিলেটেড তথ্যগুলোকে উপস্থাপন করি। আমার সামনে উপস্থিত দর্শক-শ্রতাদের সাথে হাস্যমুখে কথাবার্ত বলে তাদের সাথে ফ্রি হই, যাতেকরে তাদের এবং আমার মাঝ থেকে দুরত্বটা দূর হয়ে যেতে পারে। এর ফলে তারা আমার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং আমারও তথ্য উপস্থাপন করতে সুবিধা হয়।

আমি বক্তৃতা দেবার সময় সময়ের উপরে অনেক বেশি নজর দিই, যাতে করে আমার বক্তৃতাটি খুব বেশি দির্ঘায়ীত না হয়। আমি অনেক সময় লক্ষ করে দেখেছি- দীর্ঘ বক্তব্য সব সময় শ্রোতা-দর্শকদের বিরক্ত করে। উপস্থাপনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে তুলে ধরতে পারি বলেই হয়তো দর্শক-শ্রতারা আমার বক্তব্যকে সাদরে গ্রহণ করেন।

আজকাল প্রায়ই দেখা যায় বক্তৃতার সময় স্মার্টনেস দেখাতে গিয়ে অনেকে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলেন। আমি এটা কোনো মতেই পছন্দ করি না। আমাদের একটা সংগঠন আছে- শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র, বাংলাদেশ। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে আমি অনেকগুলো অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছি। এর অধিকাংশ অনুষ্ঠানই হয়েছে বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজে। আমি এই সকল অনুষ্ঠানগুলোতে চেষ্টা করেছি অধিকাংশ কথাগুলো বাংলায় বলার জন্য। তবে কিছু কিছু ওয়াড ইংরেজিতেই স্বস্ফুর্ততা আসে, সেগুলো ইংরেজিতেই বলি।

সব মিলিয়ে আমার এবং দর্শক-শ্রতাদের মধ্যে যে দুরত্ব থাকে আমি আমার পুরো বক্তব্যে সেটাই দুর করার চেষ্টা করি। তাদের সাথে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবটা জমিতে তুলতে পারলেই আমার মনে হয় আমি একজন সফল বক্তা, আমি আমার কঙ্ক্ষিত বিষয় উপস্থাপনে সার্থক।

-আতিকুর রহমান ফরায়েজী