সাম্প্রতিক

অসামাজিক কাজ থামাতে গিয়ে প্রেমিকাদের মার খেল মহিলা পুলিশ

ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধে পৌনে আটটা। পার্কের দরজা বন্ধ হওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে সবেমাত্র। পার্কের একোণ ওকোণ ঘুরে ভিজিটরদের তাগাদা দিতে শুরু করেছেন সিকিউরিটি গার্ডেরা। সে সময় হঠাত্‍ই দেখা গেল আলো আঁধারি ঘেরা ঝোপওয়ালা এক কোণে বসে অশ্লীল ও অসব্য আচরণ করছে এক দল পুরুষ ও মহিলা। সকলের পোশাক খোলামেলা।

একে অন্যের গায়ে তারা যেমন ভাবে ঢলে পড়ছে তাতে সহজেই সেদিকে চোখ পড়তে বাধ্য। সেসময় পার্কে সাদা পোশাকে টহল দিচ্ছিলেন ভারতের কলকাতা পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত মহিলা ব্রিগেড ‘উইনার্সে’-র সদস্যরা। ঘটনার সময়ে অবশ্য একজন মহিলা পুলিশকর্মীই সেখানে ছিলেন। ওই দলটির কাছে চলে যান তিনি। প্রশ্ন করেন-‘এসব কী হচ্ছে?’ দুই মহিলাই উত্তর দেয়-প্রেম করছি। তাতে তোর কী। চল কেটে পড়।

নিজের পরিচয় দিতেই ‘উইনার্সে’র ওই মহিলা কর্মীকে অকথ্য গালিগালাজ করতে শুরু করেন ওই চারজন যুবতী। রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। ‘উইনার্সে’ বাকি সদস্যরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন তারা দেখেন তাঁদের সহকর্মীকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। এমনকী, কলকাতা পুলিশের মহিলা কর্মীর কান কামড়ে ছিঁড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করছে ওই যুবতীদের প্রেমিকরা। উদ্ধার করতে গেলে মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ওই যুবক-যুবতীদের মারামারি শুরু হয়ে যায়। এ ঘটনা কলকাতার মিলেনিয়াম পার্কের।

মিলেনিয়াম পার্কে মহিলা পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬ জনকে। হামলাকারীদের দলের ৪ জন মহিলা ও ২ জন পুরুষ ছিল। উত্‍সবের সময় কিংবা শহরের পার্কগুলিতে নজরদারি চালানো, বিশেষত ইভটিজিংয়ের ঘটনা রুখতে কয়েক মাস আগেই তৈরি হয়েছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত মহিলা পুলিশের দল ‘উইনার্স’। ইতিমধ্যেই একাধিক সাফল্য পেয়েছে এই বিশেষ দলটি। শুক্রবার রাতেও এই মহিলা পুলিশ দলের দক্ষতার কারণেই ওই ছয় জনের দলটিকে হাতেনাতে ধরতে পেরেছে পুলিশ। তবে ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন উইনার্সের ওই সদস্য। চোট লাগে বাকি তিন জনের। একজনের কানে ও একজনের হাতের চোট গুরুতর।