সাম্প্রতিক

সহশিক্ষাঃ অপরাধের সূচনা

সহশিক্ষা শব্দটি আমাদের নিকট অপরিচিত নয়। সহশিক্ষা হচ্ছে একসাথে শিক্ষা। Co-educational means education for boys and girls together. অর্থাৎ সহশিক্ষা মানে ছেলে এবং মেয়েদের একসঙ্গে শিক্ষা। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য সহশিক্ষা চালু রয়েছে। শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠও সহশিক্ষার বাহিরে নয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও সহশিক্ষাকে স্বাগতম জনিয়েছে। সহশিক্ষাকে কেউ শিক্ষার উন্নয়নের সোপন আবার অনেকেই চরিত্র অধপতনের কারণ বলে বিবেচনা করে বসেছেন। আসলে বাস্তবতা কী?

কোন বিষয়ের আসল রূপ দেখতে হলে বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে নিলেই তার আসল রূপ সম্পর্কে অনুধাবন করা যাবে। এখানে সহশিক্ষার ফসল কি? বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার পাতা থেকেই আমরা সহশিক্ষার ফল দেখতে পাই। যেখানে প্রাইমারির একজন ছোট বাচ্চা ছাত্রীও যৌন হয়রানি থেকে নিরাপদ নয়। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট সেতো কারোর অজানা নয়। আধুনিকতার নামে চলছে বেহায়াপনা। যেখানে পিতা-মাতার উপস্থিতিতেই ছেলে-মেয়ে আধুনিকতার প্রশ্রয়ে অত্যাধুনিক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, একজন শিক্ষকের নিকটে একজন ছাত্রীর কোন নিরাপত্তা নেই। রক্ষকই ভক্ষকের দায়িত্ব পালন করে চলেছে। এমন অবাধ মেলামেশা বন্ধ করলেই অপরাধের প্রবনতা কমে যাওয়ার আশা করা যায়।

সহশিক্ষাই হচ্ছে অপরাধের সূচনা। যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছেলে-মেয়ে পৃথক করা হয় তবে এমন অবাধ মেলামেশা অসম্ভব হয়ে যাবে এবং অসাধু কাজের সুচনা হবে না। এটা বাস্তব যে, সহশিক্ষা নামক মরণব্যাধিই আমাদেরকে চরমভাবে কলুষিত করছে। সহশিক্ষাই ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অতি অল্প বয়সে চরিত্রহীন করছে। এমন ব্যবস্থায় রয়েছে ছাত্র-ছাত্রীর অবাধ চলাফেরা। যেখানে কোন প্রকার পর্দা করা হবে না, সেটাই হচ্ছে সহশিক্ষা। সহশিক্ষায় ইসলামের পর্দার বিধানকে অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখা হয়, যারা পর্দা করে চলতে চায় তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। আর যারা নগ্নভাবে চলে তাদেরকে ধন্যবাদ দেয়া হয়। সহশিক্ষা মানেই পর্দাহীনতা।

ইসলাম নারীদেরকে বখাটের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। অপরাধের সূচনাকে বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। অপরাধের সূচনা হয় সর্বপ্রথম সাক্ষাৎ বা দেখা থেকে।
তাই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
হে নবী! মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। তারা যেন সাধারণত যা প্রকাশ থাকে তা ছাড়া নিজেদের আভরণ প্রদর্শন না করে। (সূরা নূর : ৩১)
হদীস শরীফে এসেছে-
হযরত বুরাইদা রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাঃ হযরত আলী রাঃ কে বলেন। হে আলী! (সহসা) একবার দেখার পর পুনরায় (কোন বেগানা নারীকে) দেখো না। কারণ, তোমার জন্য প্রথমবারে অনুমতি রয়েছে (যখন তা অনিচ্ছায় হয়ে যাবে), কিন্তু দ্বিতীয়বারের অনুমতি নেই। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৯৭৪, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২৭৫১, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৪৯, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৭৭৭)
হদীস শরীফে আরো এসেছে-
হযরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন। যে কোন মুসলমান কোন নারীর সৌন্দর্যের প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যায়, অতঃপর সে নিজ চক্ষু নিচু করে নেয়, তবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য এক ইবাদতের সুযোগ সৃষ্টি করেন, যাতে সে তার স্বাদ পায়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২২৭৮)

তাহলে আল্লাহ তায়ালা নারীদেরকে হেফাজতের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সহশিক্ষার নামে যারা ছেলে-মেয়েদের অবাধ মেলামেশার সুযোগ করে দেয়, তারা অবশ্যই নারীদের নিকট থেকে এমন ধরনের কুপ্রবৃত্তি ও চাহিদা পূরন করতে চাই। তাই নারীদেরকেও ঐ সমস্ত কুপ্রবৃত্তি ও চাহিদা পূরনকারীদের নিকট থেকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা নারীদেরকে এমন অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার পন্থা বের করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়াদংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব : ৫৯)
যদি নারীরা এমন পদ্ধতি অবলম্বন করে, তবে তারা এমন কাজের সম্মূখিন হবে না।

আসলে ইসলামকে উপেক্ষা করে পাশ্চাত্যের অন্ধঅনুকরণে এরকম কমবাইন্ড শিক্ষাব্যবস্থা প্রকৃতিগতভাবে যুবসমাজকে অপরাধের দিকে উস্কে দেয়ার এক আগ্নেয়াস্ত্র হিসাবে যে ব্যবহৃত হচ্ছে তা সচেতনমহলের অজানা নয়। এই শিক্ষাব্যবস্থার ফলে সচ্চরিত্রতা, সততা ও নৈতিকতার ব্যাপারে যুবসমাজ আজ প্রচন্ড রকমের বিপদে রয়েছে, এটাই হচ্ছে দুঃখজনক বাস্তবতা। উক্ত শিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্রীদের সাথে ছাত্রদের এবং শিক্ষিকাদের সাথে শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে যে সহাবস্থান হচ্ছে, তা নিঃসন্দেহ হারাম হচ্ছে। সুতরাং এটাকে ফ্রেন্ডশিপ নাম দেয়া নিতান্ত হাস্যকর ব্যাপার। ফিতনা, যৌনতাড়না ও অশ্লীলতায় মগ্ন বিজাতীয় সংস্কৃতি চর্চার নাম যদি ফ্রেন্ডশিপ দেয়া হয় তাহলে শালীনতা ও সভ্যতার ঐতিহ্য চর্চাকারী মুসলিমজাতির জন্য এরচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় আর কী হতে পারে!

  • মুুহা. নাজমুছ ছলিহীন
    এলএল.বি (সম্মান), এলএল.এম (অধ্যয়নরত)
    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।