সাম্প্রতিক

অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু নির্বাচন দিন, নইলে ফুঁসবে জনগণ: কাদের সিদ্দিকী

দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে ৩০ ডিসেম্বরের প্রহসনের ভোট বাতিল করে অনতিবিলম্বে নতুন করে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

তিনি বলেছেন, ‘সময় থাকতে সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। নইলে ফুঁসে উঠবে গোটা বাংলাদেশ, দেশের জনগণ। ভবিষ্যতে এমন কোনোদিন আর আসবে না, যখন জনগণের সত্যিকার ভোটে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে পারবে। এরকম দিন আর আওয়ামী লীগ কখনই খুঁজে পাবে না। ভোট ডাকাতি, জোরজুলুম করে তারা নির্বাচন করতে পারে। কিন্তু মানুষের ভোটে কোনোদিন নির্বাচন করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘তাই সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অনতিবিলম্বে নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’

শনিবার (২ ফেব্রয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে দলের এক বর্ধিত সভা শেষে কাদের সিদ্দিকী এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধের এই অন্যতম সংগঠক বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী ট্রাইবুন্যালে প্রার্থীদের মামলা করার পক্ষে না। কারণ নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ তাদের (সরকারের) আজ্ঞাবহ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তাই ট্রাইবুন্যালে হয়তো তারা বসেই আছে মামলা যথাযথভাবে উপস্থাপন হয় নাই, এই বলে খারিজ করে দিতে। এজন্য মামলা করার পক্ষপাতি নই আমরা।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধিনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আর কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলেও জানান তিনি।

সুলতান মোহাম্মাদ মনসুরের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘তাকে নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে। এখানে তার শপথ নেয়ার কোনও প্রশ্নই আসে না। তিনি ভাবতে পারেন যে শপথ নিতে পারেন। কিন্তু জনগণ ভাবতে পারেন না তারা নির্বাচিত এবং শপথ নিতে পারেন। জনগণের বিপক্ষে গেলে আজকে যারা শপথ নিতে চাচ্ছেন পাবলিক তাদের রাস্তায় ধরে টুকরো টুকরো করে ফেলতেও পারে।’

বঙ্গবীর বলেন, ‘জনগণ ৩০ ডিসেম্বর ভোট দিতে পারে নাই, ওইদিন কোনো ভোট হয়নাই। সেজন্য সেই নির্বাচনে কোনও প্রার্থী নির্বাচিত হয় নাই। তাই তাদের শপথ নেয়ার কোনও কথা আসে না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে এই বীর উত্তম বলেন, ‘আমরা বুঝি না যে বিএনপির সদস্যরা সংসদে যাবেন কি যাবেন না- তা নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এত মাথা ব্যাথা কেন? আমরা বুঝি না অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর কেন মাথা ব্যাথা হবে বিএনপি যদি সংসদে না যায়। এ কথা তাঁকে কেন বারবার বলতে হবে।’