সাম্প্রতিক

১০ লাখ টাকার দাবিতে গলায় লোহার শেকল দিয়ে আটকে রাখা মিজান উদ্ধার

১০ লাখ টাকার দাবিতে গলায় লোহার শেকল দিয়ে আটকে রাখা মিজান উদ্ধার

১০ লাখ টাকার দাবিতে গলায় লোহার শেকল দিয়ে আটকে রাখা মিজান উদ্ধার

আলমডাঙ্গার ডাউকী গ্রামের প্রবাসি মিজানুরকে ময়মনসিংহ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মিজানুরকে ঢাকা থেকে অপহরণ করিয়ে ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত গ্রামে নিয়ে আটকে রাখা হয়। একটি ঘরে গলায় শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা মিজানুরের একটি ছবি তার স্ত্রীর মোবাইলফোনে পাঠিয়ে বলেশ্বরপুরের মালয়েশিয়া প্রবাসি রনি ১০ লাখ টাকার দাবি করেন।
জানা গেছে,
আলমডাঙ্গার ডাউকী গ্রামের মহৎ আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৩০) প্রায় সাড়ে ৪ বছর আগে মালয়েশিয়া যায়। গত ১ মাস আগে তিনি বাড়ি ফেরেন। গত ৯ আগস্ট আবার তার মালয়েশিয়া ফিরে যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। সেজন্য গত ৬ আগস্ট মিজানুর রহমান মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে ঢাকায় যায়। পরদিন মালয়েশিয়া থেকে তার পূর্বপরিচিত রনি তাকে মোবাইলফোনে রিং দিয়ে জানতে চান কোথায় মিজানুর? রনি বলেশ্বরপুরের উজির আলীর ছেলে। মিজানুরের অবস্থান জেনে ওই দিনই তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত গ্রামের এক বাড়িতে। সেখানে গলায় লোহার শেকল দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হয়। শেকলবন্দী মিজানুরের ছবি রনি পাঠিয়ে দেয় মিজানুরের স্ত্রীর মোবাইলফোনে। দাবি করা হয় ১০ লাখ টাকা। দাবিকৃত টাকা রনির বাপ উজির আলীর নিকট না দিলে মিজানকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। মিজানুর রহমানের দুশ্চিন্তাগ্রস্থ স্ত্রী গত ৯ আগস্ট আলমডাঙ্গা ছুটে গিয়ে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ রনির বাপ উজির আলী, স্ত্রী ফাতেমা খাতুন ও মা সাবিনা খাতুনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। রনিকে জানানো হয় যে, অপহৃত মিজানকে মুক্তি না দিলে তার স্ত্রী, মা-বাপকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না। বিপাকে পড়ে রনি মিজানকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়। তার কথা মত মিজানকে মুক্ত করে নিয়ে আসতে বলেশ্বরপুরের মেম্বর সাইফুল ইসলাম ও রনির ছোট ভাই টনি গত ১০ আগস্ট যায় ঢাকায়। কিন্তু ঢাকা থেকে মিজানুর রহমানকে তাদের হাতে তুলে না দিয়ে যেতে বলেন ময়মনসিংহ। ময়মনসিংহ পৌঁছে তারা রনির নির্দেশনা মত প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে গতকাল ১১ আগস্ট মিজানুর রহমানকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রবিবার দুপুরে মিজানুর রহমানকে আলমডাঙ্গা থানায় উপস্থিত করা হতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না

error: Content is protected !!