সাম্প্রতিক

স্বামীর বিরুদ্ধে তালাকসহ শারিরীক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন কাউন্সিলার সামসাদ রানু

আলমডাঙ্গা পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সামসাদ রানু তার স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও ৩০ বছরের সংসার ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের নিকট তিনি এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগসূত্রে জানা গেছে , দীর্ঘ ৩০ বছর আগে ব্যাংকার জাহিদুল হায়দার মিথ্যা তথ্য দিয়ে আসাননগরের কলিম উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে পিতা-মাতা সাজিয়ে তাকে বিবাহ করেছিল। সে সময় জাহিদুল হায়দার বেকারছিলেন। সামসাদ রানু অনেক কষ্টে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের প্রাইভেট পড়িয়ে, সেলাই মেশিনের কাজ করে, নকশি কাথা তৈরি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসার চালিয়েছেন। সেসময় থেকেই জাহিদুল বিভিন্ন কারন দেখিয়ে কাজ করার নাম করে, ব্যবসা করার নাম করে সামসাদ রানুর পিতার কাছ থেকে যৌতুকের টাকা দাবী করতো। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে জাহিদুলের সকল অপরাধ সহ্য করে কখনো ৫০ হাজার, কখনো ৪০ হাজার, ২০ হাজার, ১০ হাজার টাকা দিতেন। টাকা দিতে দেরি করলে স্ত্রীর উপর অকথ্য নির্যাতন চালাতো। এমনকি সামসাদ রানুর তার পিতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে এরশাদপুর গ্রামে একটি জমি ক্রয় করে এবং তিনি ও তার স্বামীর যৌথ টাকায় একটি বাড়ি তৈরি করেন। ততদিনে জাহিদুল হায়দার বাংলাদেশে কৃষি ব্যাংকের কেরানি পদে চাকুরী পান। এছাড়াও এরশাদপুরের বাড়ি নির্মাণ খরচ ও আসবাবপত্র সামসাদ রানুর টাকায় ক্রয় করা বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, স্বামী জাহিদুল বরাবরই চরিত্রহীন ছিল। প্রায় অন্য মহিলাদের নিয়ে দেহভোগ করতে গেলে তিনি প্রতিবাদ করেন। তখন তিনি স্ত্রীর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন। স্ত্রী বেশ কয়েকবার আত্মহত্যা করতে গেছেন। একবার নিজের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুনে পুড়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। এরপরও প্রায় ১০-১২ বছর আমাদের সংসার ভালোভাবেই কাটছিল বলে দাবি করেন সামসাদ রানু। সামসাদ রানু একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আলমডাঙ্গা আওয়ামীলীগের সদস্য মনোনীত হয়ে গত পৌর নির্বাচনে ৪,৫,৬ মহিলা সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন করে জয় লাভ করেন। এতে তার স্বামী ঈষান্বিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। কাউন্সিলর হিসেবে বিভিন্ন অফিসের লোকজনের সাথে ওঠাবসা করতে হয়। এতে স্বামী জাহিদুল মাঝে মধ্যেই তার উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে। এরই এক পর্যায়ে আকস্মিকভাবে জানতে পারলেন সামসাদ রানুকে স্বামী তালাক দিয়েছে। তিনি এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি তিন সন্তান নিয়ে এখনো এরশাদপুরের বাড়িতে বসবাস করছেন বলে উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি জাহিদুল বাড়ির কাজের মেয়েকে নিকাহ করেছে বলে জানতে পেরেছেন বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তিনি একজন সামাজিক কর্মী হিসেবে, একজন পৌর কাউন্সিলর হিসেবে সুবিচার চেয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না

error: Content is protected !!