সাম্প্রতিক

সদ্য প্রয়াত শ্বাশুড়ির দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন কাপড় ব্যবসায়ি রবিউল

সাম্প্রতিকী ডেস্কঃ সদ্য প্রয়াত শ্বাশুড়ির দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন আলমডাঙ্গা এরশাদপুরের কাপড় ব্যবসায়ি রবিউল ইসলাম(৪৫)। গতকাল চুয়াডাঙ্গা -কুষ্টিয়া সড়কের বাগমপড়া মোড় ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রিবাহি বাস উল্টে তিনি নিহত হন। আহত হয়েছেন ৪০ জন। তাদের মধ্যে ১০/১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গার এরশাদপুর গ্রামের মৃত মোজাহার আলীর ছেলে রবিউল ইসলান (৪৫) একজন কাপড় ব্যবসায়ি। ১সপ্তাহ আগে তার শ্বাশুড়ি মারা গেছেন। গতকাল বুধবার ছিল তার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল। সেই মিলাদ মাহফিলে যোগ দিতে বাড়ি থেকে পোড়াদহ শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তিনি। সকাল ৯টা ৫০মিনিটে তিনি কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা আল্লাহ্র দান নামক যাত্রিবাহি বাসে ( চট্র জ – ১১-০০৪৪) উঠেন। ১০টার পর পর বাসটি কুষ্টিয়ার ইবি থানার নওদাপাড়া – বাগমপড়া মোড়ে পৌঁছে। দ্রুতগতিতে মোড় ঘুরতে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পাশের ধানক্ষেতের ভেতর উল্টে যায়। দ্রুত গ্রামিবাসি বাসের যাত্রিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া ও আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। তারা গ্রামবাসির সহযোগিতায় দ্রুত যাত্রিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। মাটি কেটে বাসের নীচে চাপাপড়া রবিউল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়। অন্যান্যদের সাথে সজ্ঞাহীন রবিউল ইসলামকেও উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের এ্যাম্বুলেন্সে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শিরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ জন যাত্রি কম বেশি আহত হয়েছেন।এদের মধ্যে ১০/১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একই বাসে থাকা আহত এরশাদপুর গ্রামের মৃত ডবন মন্ডলের ছেলে আলম (৫২), একই গ্রামের শরিয়ত আলীর ছেলে সাহেদ (২২), হালসা মাধ্যমিক বিদ্যলয়ের সিনিয়র ইংরেজি শিক্ষিক মখলেসুর রহমান (৫৪) খেজুরতলা গ্রামের সিজাম প্রামানিকের ছেলে ওয়াসিম সহ ১০/১২ গুরুতর অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত রবিউল ইসলামের মৃতদেহ কুষ্টিয়া জেলারেল হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত শেষে সন্ধ্যায় নিজ গ্রাম এরশাদপুর গ্রামে পৌছে। এসময় নিহত রবিউলের পরিবারের কান্নায় এরশাদপুর গ্রামের বাতাস ভারি হয়ে উঠে। সন্ধ্যার পর জানাযা নামাজ শেষে গ্রাম্য কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বাস দূর্ঘনায় নিহত রবিউল ইসলামের স্ত্রী, ২ মেয়ে ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে রুবিনা (১৫) দশম শ্রেণী, ছোট মেয়ে রুমি (১০) দ্বিতীয় শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। ছেলে পারভেজের বয়স আড়াই বছর।

error: Content is protected !!