সাম্প্রতিক

শাজাহান খানের মতো কুৎসিত লোকটি কী করে মন্ত্রী হয়

সড়কে মৃত্যুর মিছিলের বিপরীতে বাস-ট্রাক চালক-শ্রমিকদের যথোপযুক্ত শাস্তির বিপরীতে অবস্থান নেওয়ায় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মন্ত্রিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আরণ্যক নাট্যদলের মে দিবসের আয়োজনে যোগ দিয়ে কামাল লোহানীর কণ্ঠে এই ক্ষোভ ঝরে।

আরণ্যকের মে দিবসের আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে কামাল লোহানী বলেন, “সড়কে চালকদের যোগ্যতা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, যখন মানুষ মারার অপরাধে তাদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি উঠে, তখন তার বিপরীতে অবস্থান নেন মন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলছেন, চালকদের কুকুর –বেড়াল চিনলেই হবে। এই কুৎসিত লোকটি কী করে মন্ত্রী হয়?

“আজকে আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এক বাংলাদেশ গড়ার কথা বলছি, তখন সেই বাংলার মন্ত্রিসভায় এই কুৎসিত লোকটি কী করে সদস্য হন? তিনি একইসঙ্গে শ্রমিক আন্দোলন করছেন, আবার মন্ত্রিত্বও জাহির করছেন- এটা তিনি কী করে সম্ভব?”

নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী রাজনৈতিক শামীম ওসমানের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, “বাসচালক –শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে তিনি এখন সেই টাকার বলে মানুষ কিনে নিচ্ছে।”

এসময় তিনি জানান, দেশের ‘বহুল প্রচারিত’ একটি পত্রিকায় শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে লেখা পাঠালেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়ে ফিরে এসেছে তার কাছে।

কামাল লোহানী বলেন, “৬২ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে দেখলাম না কোনোদিন লেখা ফিরে এসেছে। লেখা হয় ছাপা হবে, না হলে তা ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত হবে। কোনোদিন ফিরে আসেনি লেখা। আমি সেই বহুল প্রচারিত দৈনিকের এক জনকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘এ নিয়ে আর জিজ্ঞাসা করবেন না’। অর্থের জোর বড় সাংঘাতিক!”

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারায় সরকার মুক্তবাক, মুক্তকণ্ঠ রোধ করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসময় তিনি আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনাও করেন।

মে দিবসের আলোচনায় যোগ দিয়ে কামাল লোহানী বলেন, শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্বের পুরোভাগে থাকা ‘বিরাট হৃদয় অগ্নিগর্ভ’ চোখগুলো বন্ধ হয়ে আসছে। পরে তিনি শিশু শ্রমের বিরুদ্ধেও সবাইকে সোচ্চার হতে বলেন।

আরণ্যকের দল প্রধান নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদও কামাল লোহানীর মতো নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সমালোচনায় মেতে উঠেন। সড়কে দুর্ঘটনা, ধর্ষণের বিপরীতে দায়ী বাস চালক ও শ্রমিকদের পক্ষ নেওয়ায় তাকে বিচারের কাঠগড়ায় তোলার দাবিও জানান তিনি।

মামুনুর রশীদ বলেন, “বাংলাদেশের ২ শতাংশ মানুষ ৯৮ শতাংশ রাষ্ট্রীয় সম্পদের মালিক বনে গেছে। উল্টোদিকে বাঙালির মধ্যে এখনও কর্মসংস্কৃতি আসেনি। বাঙালি সেই অলস আর কুঁড়েই থেকে গেছে।”

চলতি সময়ে শ্রমিক আন্দোলনের নেতারা ক্ষমতাসীনের স্তব-স্তুতিতে মুখর থাকার অভিযোগ আনেন নাট্যব্যক্তিত্ব মান্নান হীরা।

তিনি বলেন, “এদেশের যে শ্রমিক শ্রেণি রয়েছে তারা এখন মৃতপ্রায়। শ্রমিক শ্রেণির কণ্ঠে এখন অধিকার আন্দোলনের বিপরীতে শোনা যায় সরকারি প্রচারণা। আন্দোলনের ধ্বনির চেয়ে তাদের কণ্ঠে শোনা যায় শোষকের জয়গান। ট্রেড ইউনিয়নের ম্যানেজমেন্ট এখন শোষকের সঙ্গে আপস করে শ্রমিকদের অন্ধকারে রেখেছে।”

শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সমাজের বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে সংস্কৃতিকর্মীদের সমন্বয়ের পরামর্শ দেন মান্নান হীরা।

এর আগে মে দিবসের আন্তর্জাতিক সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আরণ্যকের মে দিবস উদযাপন। নাট্য নির্দেশক, অভিনেতা আসাদুল ইসলাম আবৃত্তি করেন ‘তিতাস একটি লাশের নাম’ ও ‘কমন্দান্তে’ কবিতা দুটি।

পরে আরণ্যক পরিবেশন করেন পথনাটক ‘অরণ্যমঙ্গল’।- বিডি নিউজ টুয়েন্টিফোর থেকে নেয়া।

error: Content is protected !!