সাম্প্রতিক

ঝিনাইদহে কলাবাগান ফুটসাল লীগে রংধনু স্পোর্টিং জয়ী

 

 

ঝিনাইদহে কলাবাগান ফুটসাল লীগে রংধনু স্পোর্টিং জয়ী

ঝিনাইদহে কলাবাগান ফুটসাল লীগে রংধনু স্পোর্টিং জয়ী

এলিস হক, ঝিনাইদহ হতে :ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত আজ শনিবার ১১ই আগস্ট’১৮ বিকেল পৌণে ৫টায় কলাবাগান ফুটসাল প্রিমিয়ার লীগের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম খেলায় রংধনু স্পোর্টিং ক্লাব টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে সোনালী স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে।
প্রথমার্ধে উভয় দলের গোলশূন্য ছিল। খেলার প্রথমার্ধে সোনালী স্পোর্টিং পুরো খেলায় ৭ বার প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ চালিয়েছে। এর মধ্যে ৫টি হাফ চান্স, ২টি ফুল চান্স এবং ৬টি গোলমিস করেছে। খেলার প্রথমাধের্র ৯মিনিটে সোনালী স্পোর্টিংয়ের ৯ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় দেবাশীষ রংধনুর গোলকিপার সোহানকে একা পেয়েও গোল করার মতো সুযোগ হাতছাড়া করেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৩৫ মিনিটে সোনালীর বদলি খেলোয়াড় ১৩ নম্বর খেলোয়াড় ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক আশিক পোস্টের খুব নিকটে দুর্দান্তভাবে বল সজোরে কিক করেন। কিন্তু বলটি ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। খুব সহজ দুটি গোলমিস না হলে খেলার চেহারা অন্যরকম হতে পারতো এবং ২ গোলে জিতে পরের রাউন্ডে যেতে পারতো সোনালী স্পোর্টিং। কিন্তু দুর্ভাগ্য ভালো খেলেও টাইব্রেকারে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট হতে বিদায় নিলো।
পক্ষান্তরে রংধনু স্পোর্টিং ক্লাব ৬ বার প্রতিপক্ষের শিবিরে আক্রমণ রচনা করেছে। এর মধ্যে ৪টি হাফ চান্স, ২টি ফুল চান্স এবং ৩টি গোলমিস করেছে। বিশেষ করে রংধনুর ৬ নম্বর জার্সিধারী প্রান্ত এবং ৯ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় আলামিন প্রতিপক্ষের শিবিরে গিয়ে ৩/৪টি সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। বেশির ভাগ ফ্রিকিক রচিত হয়েছে আলামিনের পা হতে। তবুও তার সতীর্থ খেলোয়াড়েরা হেড করতে কিংবা সেটপিস শট নিতে পারেন না। হয় প্রতিহত নয়তো লক্ষ্যভ্রষ্ট শট হয়েছে। ৩বার কর্ণার কিক হয়েছে। অথচ কাজের কাজটি করা যায়নি। দ্বিতীয়ার্ধের ৩১ মিনিটে রংধনুর ৮ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় রকি প্রতিপক্ষের ফাঁকা কোর্টে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন এবং সামনে একজন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করলেও দেরিতে হাফভলি শট করেন..ততক্ষণে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা নিরাপদ জায়গায় এসে পৌঁছান এবং বলকে ক্লিয়ার করে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে ৩৬ মিনিটে রংধনুর ৪ নম্বর খেলোয়াড় সুমন সোনালী স্পোর্টিংয়ের পোস্টের খুব কাছ দিয়েও আলতোভাবে বল ছুঁতে ব্যর্থ হন।

সারা খেলায় চোখে পড়ার মতো একজন খেলোয়াড়কে সমস্ত মাঠে চষে খেলেন। সোনালী স্পোর্টিং ক্লাবের ৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় শাকিব। তিনি নিজেও খেলেছেন এবং তার দলকেও খেলিয়েছেন। বেশির ভাগ আক্রমণ রচিত শাকিবের জোড়া পা হতে। যথেষ্ট ভালো খেলে স্থানীয় দর্শকদের মনজয় করে নেন তিনি। শাকিব বার বার ডানপ্রান্ত দিয়ে প্রতিপক্ষ রংধনু স্পোর্টিংয়ের কোর্টে ঢুকে ত্রাসের কারণ ঘটান। দ্বিতীয়ার্ধের ৪১ মিনিটে ব মাঝমাঠে রংধনুর আলামিনকে খেলা চলাকালীন সময়ে চাপ্টে ধরে রাখায় রেফারি রবিউল ইসলাম সোনালীর শাকিবকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেন।

শেষ পর্যন্ত উভয় দল গোলমিসের মহড়া দেখানোর কারণে টাইব্রেকার কিক গড়ায়। টাইব্রেকার কিকে রংধনুর পক্ষে আলামিন (৯ নম্বর জার্সি), রকি (৮ নম্বর জার্সি) ও সুমন (৪ নম্বর জার্সি) গোল করলেও রিয়াদ (৭ নম্বর জার্সি) পারেননি।
অপরদিক সোনালীর পক্ষে শাকিব (৭ নম্বর জার্সি) ও সাধন (১০ নম্বর জার্সি) টাইব্রেকার কিকে মিস করলেও দেবাশীষ (৯ নম্বর জার্সি) ও আশিক (১৩ নম্বর জার্সি) গোল করেছেন। সবমিলিয়ে রংধনু স্পোর্টিং ৩-২ গোলে জয়লাভ করে পরের রাউন্ডে উঠেছে।

রংধনু স্পোর্টিং ক্লাব : গোলকিপার সোহান, আলামিন, প্রান্ত, রিয়াদ, সুমন, নাসির ও রকি।
সোনালী স্পোর্টিং ক্লাব : গোলকিপার সোহাগ, দেবাশীষ, শাকিব, বড় সবুজ, প্রান্ত, ছোট সবুজ ও সাধন (আলামিন)।
রেফারি : রবিউল ইসলাম। সহকারী রেফারি : জাহিদ ও আশিক।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না

error: Content is protected !!