সাম্প্রতিক

ইবিতে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ফাঁস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্যের অডিও ফাঁস হয়েছে। অডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বিভাগের ৩ শিক্ষকের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগে বাণিজ্যের এ ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রার্থীর সাথে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন করেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল।

তারা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেনের মাধ্যমে ওই বিভাগে চাকুরী প্রার্থীকে চাকরি পাইয়ে দিতে এ লেনদেন করে বলে অডিওতে উঠে আসে। অডিওতে উপরোক্ত তিনজন শিক্ষকের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকায় নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও রেকর্ড গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। তবে এবারের অডিওতে ২০ লাখ টাকা অগ্রিম লেনদেনের সত্যতা পাওয়া গেছে। অডিও ক্লিপ থেকে জানা যায়, চাকরি নিশ্চিত না হওয়ায় চুক্তিকৃত সেই টাকা প্রার্থীকে ফেরত দেয়া হয়েছে।

এ সময় অধ্যাপক আজাদ ওই প্রার্থীকে আগামী ৬মাসের মধ্যে পুণরায় নিয়োগের সম্ভবনা দেখিয়ে ওই টাকা সংরক্ষণ করে রাখতে বলেন এবং আগামী নিয়োগের ১৫দিন আগে যোগাযোগ করতে বলেন। ওই অডিও সূত্রে জানা যায়, এবারের নিয়োগের জন্য নগদ ১০ লাখ টাকা প্রদান এবং বাকি ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। তবে ওই প্রার্থীর নিয়োগ নিশ্চিত না করতে পারায় ১৩ জুলাই রাতে ওই প্রার্থীর স্বামীকে ফোনে ডেকে নিয়ে টাকা ফেরত দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, শনিবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ টি বিভাগের ৩৭ জন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে ২৪১তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার পরপরই প্রার্থী নিয়োগ নিয়ে অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়ে যায়।

প্রার্থীর স্বামী শাহরিয়ার রাজ জানান, চাকরির ৯৯ শতাংশ কনফার্ম করেছিল বলেই টাকা দিয়েছিলাম। আমার স্ত্রীর আর চাকরির বয়স নেই। আমি তাদের বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইবি শিক্ষক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল বলেন, ‘আমার কিছুই বলার নেই। বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত।’

অভিযুক্ত ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘রাজনীতি করার কারণে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে হয়। তবে আমি কারও জন্য কখনও ভিসি স্যারের কাছে সুপারিশ করিনি। এখন বুঝতে পারছি শুধুমাত্র নিরেট শিক্ষক থাকলে ভাল করতাম। ভাল মানুষের জন্য রাজনীতি নয়।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিভাগে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখন আমার নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ কোন অপকর্ম করে তবে আমি তাদের বিচার দাবি করছি।’

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রগতিশীল শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্য আজ ছোঁয়াচে আকার ধারণ করেছে। অনেক ভালো ভালো শিক্ষকও আজ নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ছে। মূলত প্রকাশিত অপরাধের যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এটি দিন দিন মহামারী আকার ধারণ করছে। অনেক সময় প্রশাসনের কর্তারাও বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকায় সুষ্ঠ বিচার হয় না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘যদি এমন ধরনের কোনো চুক্তি তারা করে থাকে, সেটি কার্যকর হোক বা না হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে অডিও ফাঁসের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য আইসিই বিভাগের প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমানকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম এবং ইংরেজি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. এ. এইচ. এম. আক্তারুল ইসলাম।

তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ভিসি বরাবর জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না

error: Content is protected !!