সাম্প্রতিক

আলমডাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের জনপ্রিয় শিক্ষক মহাসিন আলী৮ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেলেন

৮ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেলেন

৮ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেলেন

স্ট্রোকে আক্রান্ত আলমডাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের হাস্যোজ্জ্বল জনপ্রিয় তরুণ গণিত শিক্ষক মহাসিন আলী ঢাকার মেট্রোপলিটন হাসপাতালে আইসিইউ-তে লাইফ সাপর্টে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন( ইন্না লিল্লাহি —রাজিউন)। গত ৪ জুন বিদ্যূতবিহীন প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে রোজায় থাকা অবস্থায় তিনি আকস্মিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাকে প্রথমে কুষ্টিয়ার সনো টাওয়ারে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে পরে ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারপর বিডিএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেষে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এক পর্যায়ে গতকাল সকালে তার সুস্থ্য হওয়ার আশা ছেড়ে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল দুপুর পর লাইফ সাপোর্ট মুক্ত করে দেওয়া হলে সন্ধ্যা ৬ টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল (৪৩) বছর।
আলমডাঙ্গা গোবিন্দপুরের আক্কাস আলীর ছেলে মহাসিন আলী (৪৩) আলমডাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক। তার সহধর্মিনী জেসমিন আক্তারও একই বিভাগের প্রভাষক। হাস্যোজ্জল মহাসিন আলী ছিলেন কলেজের জনপ্রিয় শিক্ষক। ছিলেন রসবোধসম্পন্ন ও বন্ধুবতসল। ২ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে মহাসিন আলী ছিল সকলের ছোট। মৃত্যুকালে তিনি ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে গেছেন। ছেলে জাহিদ ৩য় শ্রেণি ও মেয়ে মৌমিতা শিশু শ্রেণিতে পড়ে।
গভীর রাতে কলেজ শিক্ষক মহাসিন আলীর লাশ বাড়িতে পৌঁছবে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় তার নিজ কর্মস্থল আলমডাঙ্গা ডিগ্রী কলেজ মাঠে ১ম জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গ্রামে ২য় জানাযা শেষে বেলা ১১টায় গ্রামের গোরস্থানে লাশ দাফন করা হবে।
গত ১ বছর আগে ঠিক ঈদের পূর্বদিন মহাসিন আলীর মা একইভাবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ঠিক এক বছর পর স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ঈদের ৩দিন পূর্বে মহাসিন আলীও মৃত্যুবরণ করলেন। এভাবে একই বছরের মাথায় মা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের শান্তনা দেওয়ার ভাষা সকলেই হারিয়ে ফেলেছেন। অকালে স্বামীকে হারিয়ে নাবালক ২ শিশু সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী জেসমিন আক্তার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। স্ত্রী, সন্তাসহ নিকটজনের বুকফাটা আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।

error: Content is protected !!