সাম্প্রতিক

 আলমডাঙ্গার বড় পুটিমারী পুরুষের ছদ্মবেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় আরও একজন গ্রেফতার

 আলমডাঙ্গার বড় পুটিমারী গ্রামের পুরুষের ছদ্মবেশ ধরণ করে ছিনতাইয়ের অপচেষ্টা ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে পুলিশ গ্রেফতার

আলমডাঙ্গার বড় পুটিমারী গ্রামের পুরুষের ছদ্মবেশ ধরণ করে ছিনতাইয়ের অপচেষ্টা ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে পুলিশ গ্রেফতার

আলমডাঙ্গার বড় পুটিমারী গ্রামের পুরুষের ছদ্মবেশ ধরণ করে ছিনতাইয়ের অপচেষ্টা ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুরুষের ছদ্মবেশ ধারণকারি বুলবুলি খাতুনের বিরুদ্ধে দস্যুতার অপচেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১১ আগস্ট রাতে পুরুষের ছদ্মবেশে প্রবাসির বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ছিনতাইয়ের অপচেষ্টাকারি বড় পুটিমারী গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী বুলবুলি খাতুনকে (৩৬) ওই রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর রাতেই তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া বুলবুলি খাতুন জানিয়েছেন, সমিতির ঋণের টাকার কিস্তি দিতে না পারাসহ সংসারের অভাবের নাগপাশ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যই তিনি পুরুষের পোষাক পরে মুখে কালি মেখে ছিনতাই করতে গিয়েছিলেন। এমনকি তার সাথে অন্যান্য যে ২জন ছিনতাইয়ের অপচেষ্টায় জড়িত ছিলেন তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছেন। এদের মধ্যে একজন হলেন একই গ্রামের ইবাদত আলীর ছেলে বাদশা (১৯) ও একই গ্রামের মৃত বাহার আলী মন্ডলের ছেলে আজিমুল (৪০)। এদের মধ্যে পুলিশ বাদশাকে গতকাল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। পালিয়েছে আজিমুল। রাতে বুলবুলি যখন লাবণির ঘরে ঢুকে, সে সময় এ দুজন ঘরের বাইরে ছিলেন বলে বুলবুলি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রবাসির স্ত্রী লাবণি খাতুন আলমডাঙ্গা থানায় উপস্থিত হয়ে দস্যুতা অপচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার হওয়া বুলবুলি খাতুন ও বাদশাকে গতকাল আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে, মামলার এজাহারে বাদী বড় পুটিমারী গ্রামের হাবিবুর রহমান হবির স্ত্রী লাবণি খাতুন উল্লেখ করেছেন, তার স্বামী গত প্রায় ৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায়। তাদের ২ সন্তান। বড় ছেলে যশোরের একটি মাদ্রাসায় ও মেয়েটি কুষ্টিয়ার আইলচারা মাদ্রাসায় পড়ে। বাড়িতে শুধু লাবণি ও তার বৃদ্ধ শ্বাশুড়ি থাকেন। গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি ঘরে বসে খাচ্ছিলেন। বৃদ্ধ শাশুড়ি ঘরের বারান্দায় শুয়েছিলেন। সে সময় জিন্সের প্যান্ট-শার্ট পরিহিত অজ্ঞাত ব্যক্তি হঠাত তাদের ঘরে ঢুকে পড়েন এবং বুলবুলের মাথার উপর দা ধরে ভ্যভীতি দেখিয়ে তার টাকা পয়সা সব বের করে দিতে বলেন। সে সময় লাবণি খাতুন ও তার শাশুড়ির চিৎকার চেচামেচিতে প্রতিবেশিরা ছুটে গেলে জিন্সের প্যান্ট-শার্ট পরিহিত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে ধানের মাঠ থেকে গ্রামবাসি তাকে ধরেন। রাতেই গ্রামবাসি শুকুর আলীর স্ত্রী বলে শনাক্ত করেন। এক পর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরবর্তিতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পুরুষ ছদ্মবেশী মহিলাদস্যু বুলবুলিকে আটক করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ঘটনার পূর্ব দিন লাবণি খাতুনের স্বামী বিদেশ থেকে ৩০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। এছাড়া তিনি ব্র্যাক থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করেছেন। এই ১ লাখ টাকা ছিল তার ঘরে। ওই টাকা ছিনিয়ে নিতেই বুলবুলি খাতুন ওই দস্যুতার অপচেষ্টা করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না

error: Content is protected !!